স্বাধীন সংবাদ ডেস্ক:
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “এই দেশে কোরআন ও সুন্নাহর বাইরে কোনো আইন করা হবে না। আমরা চাই দেশের সকল আইন ও নীতি ইসলামের ন্যায় ও সত্যের পথে পরিচালিত হোক।” রবিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মানবকল্যাণ ট্রেনিং সেন্টার-এ আলেম ও উলামাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “দেশ ক্রান্তিকাল পার করছে। কিছু পক্ষ আন্দোলন ও অন্যান্য কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে যাতে দেশ আবার কোনো অন্ধকারের দিকে না যায়। নিজেদের মধ্যে ভুলবশত বিভেদ বা অনৈক্য সৃষ্টি হলে তা চক্রান্তকারীদের কাজে লাগতে পারে, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর হবে।”
তিনি আরও বলেন, “অনেকেই বিভ্রান্ত হয়ে ভাবছে আমরা কোরআন ও সুন্নাহর আইন চাই না। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট – আমরা কোরআন ও সুন্নাহর মধ্যেই থাকতে চাই। আমি একজন গর্বিত মুসলিম। ইসলাম সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করে এবং শান্তির ধর্ম। আমরা চাই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকুক।”
বিএনপি ক্ষমতায় এলে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণের কল্যাণে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হবে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “খতিব, ইমাম, মাওলানাদের মাসিক সম্মানী প্রদান করা হবে এবং ধর্মীয় উৎসবে ভাতা দেওয়া হবে। এছাড়া দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয়ের প্রধানদেরও মাসিক সম্মানীসহ ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে।”
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদানের কথাও স্মরণ করেন তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, “জিয়া সাহেব ইসলামের কাজে অবদান রেখে গেছেন। তিনি পবিত্র মক্কা শরিফের আরাফাতে একটি নিম গাছ রোপণ করেছিলেন, যা ‘জিয়া গাছ’ নামে পরিচিত। বিএনপি সেই পথের পথিক। দেশের ৯০ শতাংশ মানুষ মুসলমান। আমাদের ধর্ম, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির সংরক্ষণের জন্য বিএনপি সর্বদা কাজ করেছে। সকলের সহযোগিতায় আমরা সামনের দিকে এগিয়ে চলেছি।”
মহাসচিব আরও বলেন, “গত ১৭ বছরে দেশের মানুষ জঙ্গির আতঙ্ক থেকে মুক্তি পেয়েছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে দেশের নেতৃত্ব থেকে সরে যেতে হয়েছে। তবে এই আন্দোলনে প্রায় দুই হাজার মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। মিথ্যা মামলায় খালেদা জিয়াকে দীর্ঘ সময় ধরে কারাগারে রাখা হয়েছে এবং তার সঠিক চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। তিনি বর্তমানে খুবই অসুস্থ, যদিও সারাজীবন মানুষের অধিকারের জন্য তিনি অবিরাম আন্দোলন করেছেন।”
অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফ, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবর রহমান তুহিন, হাফেজ মো. রশিদ, বড় মসজিদের ইমাম খলিলুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্য বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং সরকারের প্রতি বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। তিনি বারবার দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং ধর্মীয় ন্যায় প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।