ধানমন্ডি ও উত্তরা সাব-রেজিস্ট্রার আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজধানীর ধানমন্ডি ও উত্তরা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে কর্মরত সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অবৈধভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অফিসের এক কর্মচারী রানা নামের ব্যক্তির সঙ্গে যোগসাজশে বিভিন্ন সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ আদায় করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগে বলা হয়েছে, জমি রেজিস্ট্রেশনের বিভিন্ন পর্যায়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তির নামে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ এবং দলিল সংক্রান্ত নানা কাজে কথিত দালালচক্রের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী দাবি করেন, সরকারি নির্ধারিত ফি পরিশোধের পরও বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, অতিরিক্ত অর্থ না দিলে অনেক ক্ষেত্রে দলিল নিবন্ধন বা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে বিলম্ব করা হয়। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য নথি এই প্রতিবেদকের হাতে আসেনি।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অফিসের রানা নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে অনেক আর্থিক লেনদেন পরিচালিত হতো বলে অভিযোগকারীদের দাবি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি বিভিন্ন সেবাগ্রহীতার সঙ্গে যোগাযোগ করে কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়ে অর্থ সংগ্রহ করতেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মোঃ আরিফুর রহমানের পিতার নাম মোঃ আব্দুল জলিল এবং মাতার নাম জোসনা খাতুন। অভিযোগকারীরা তার বর্তমান ঠিকানা হিসেবে কাটাসুর, শের-ই-বাংলা রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭ এবং স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে গ্রাম: ব্রিট্টি আছড়া, ডাকঘর: বালুন্ডা, থানা: বেনাপোল পোর্ট, জেলা: যশোর ।

সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী কর্মীরা বলছেন, ভূমি ও দলিল নিবন্ধন খাতে অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়। তারা মনে করেন, এ ধরনের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগ মিথ্যা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দায়মুক্তি দেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

এ বিষয়ে মোঃ আরিফুর রহমানের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট মহল অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, নিবন্ধন অধিদপ্তর এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *