নরসিংদীর পলাশে দুই সহোদরের প্রভাব নিয়ে জনমনে প্রশ্ন,  চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া রিপন ও নিজামুদ্দিন ভূঁইয়া লিটনকে ঘিরে নানা অভিযোগ

নরসিংদী প্রতিবেদক: 

নরসিংদীর পলাশ উপজেলার আমদিয়া ইউনিয়নে দুই সহোদর—ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া রিপন এবং স্থানীয়ভাবে আলোচিত ব্যক্তি নিজামুদ্দিন ভূঁইয়া লিটনকে ঘিরে নানা অভিযোগ ও আলোচনা নতুন করে সামনে এসেছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বিগত সরকারের সময়ে এই দুই ভাই রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এলাকায় দীর্ঘদিন প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া রিপন আমদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অপরদিকে তাঁর ভাই নিজামুদ্দিন ভূঁইয়া লিটন ‘ডেভিল’ নামে পরিচিত হলেও তিনি কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক পদে নেই বলে জানা গেছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন।

এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, বিগত সরকারের সময় এই দুই ভাইয়ের প্রভাব এলাকায় ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করে। বিশেষ করে কান্দাইলসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে তাঁদের প্রভাব নিয়ে মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন অসন্তোষ ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, সে সময় বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের কথাই ছিল চূড়ান্ত বলে মনে হতো।

অভিযোগ রয়েছে, সরকার পরিবর্তনের পরও তাঁরা নতুন করে কিছু প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, এর মাধ্যমে তাঁরা এখনো এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন এবং নানা কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও রাজনৈতিক নেতারা বলছেন, যদি সত্যিই কারও বিরুদ্ধে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার বা আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগ থাকে, তবে তা অবশ্যই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া উচিত। তাঁরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়—তদন্ত হলেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।”

এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।

এ বিষয়ে নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া রিপন ও নিজামুদ্দিন ভূঁইয়া লিটনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং কোনোভাবেই তাঁদের সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *