নাগরপুর ও দেলদুয়ার ৬ আসনকে চাঁদাবাজ মাদকমুক্ত ও উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলবো: আব্দুল হামিদ

লাভলু মিয়া:

নাগরপুর ও দেলদুয়ার ৬ আসনের নির্বাচনী মাঠে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. এ. কে. এম. আব্দুল হামিদ তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় এলাকার উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন, তার নেতৃত্বে নাগরপুর ও দেলদুয়ার ৬ আসন হবে চাঁদাবাজমুক্ত, মাদকমুক্ত এবং দেশের উন্নয়নের রোল মডেল।

ডা. আব্দুল হামিদ MBBS, FCGP এবং CC Ultra (USA) ডিগ্রিধারী একজন বিশিষ্ট চিকিৎসক। দীর্ঘ বছরের চিকিৎসা ও সমাজসেবায় অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় তিনি ইতোমধ্যেই নাগরপুরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অসংখ্য পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি ব্যক্তিগত চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি অসহায় ও দরিদ্র মানুষদের জন্য স্বাস্থ্য শিবির, বিনামূল্যে চিকিৎসা এবং হাসপাতাল ভিত্তিক সেবা নিশ্চিত করে আসছেন।

তার পরিবারও সমাজসেবা ও চিকিৎসা খাতে সক্রিয়। স্ত্রী লুৎফুন নাহার ধলেশ্বরী হাসপাতালে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সন্তানরা বিভিন্নভাবে চিকিৎসা ও মানবাধিকার খাতে অবদান রাখছেন। ডা. খুররাম জাহ মুরাদ কুমুদিনী মেডিকেল কলেজের নাক, কান, গলা বিভাগে রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত, তার স্ত্রী ডা. সিনথিয়া আলী গাইনী চিকিৎসক হিসেবে ধলেশ্বরী হাসপাতালে সেবা দিচ্ছেন। ব্যারিস্টার হাসনাত জামিল মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশনের সহকারী মহাসচিব এবং যুব জামায়াতের ক্রীড়া সম্পাদক। ডা. সুরভী বিনতে হামিদ ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজে লেকচারার হিসেবে শিক্ষকতার পাশাপাশি দেশের চিকিৎসা খাতে অবদান রাখছেন।

রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও ডা. আব্দুল হামিদ সুপরিচিত। তিনি ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি, রাঙামাটি জেলা জামায়াতের সাবেক কর্মপরিষদ সদস্য এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এলাকার উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। তিনি রাবেতা উচ্চ বিদ্যালয়, লংগদু মডেল কলেজ, আমতলী উচ্চ বিদ্যালয় প্রভৃতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা। এছাড়া, তিনি রাবেতা হাসপাতাল এবং মুক্তা হাসপাতাল, ধলেশ্বরী হাসপাতালসহ একাধিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার মাধ্যমে জনসাধারণকে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করছেন।

ডা. আব্দুল হামিদের সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমও বিস্তৃত। তিনি সমাজকল্যাণ পরিষদে সাবেক সহ—সভাপতি, বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষক নিয়োগ কমিটির সভাপতি, স্থানীয় ঈদগাঁও মাঠ কমিটির প্রধান উপদেষ্টা এবং নাগরপুর সমিতির উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি টাঙ্গাইল রেড ক্রিসসেন্ট সোসাইটি ও টাঙ্গাইল শহর সমাজসেবা প্রকল্পের আজীবন সদস্য। স্থানীয় মসজিদ কমিটিতেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে সভাপতিত্ব করছেন।

চিকিৎসা ও সমাজসেবার পাশাপাশি ডা. আব্দুল হামিদ শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে বিশেষ অবদান রেখেছেন। তিনি টাঙ্গাইলের দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের জন্য বৃত্তি প্রদান করে তাদের শিক্ষাজীবনকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করছেন। এছাড়া তিনি সারা দেশের বেকারদের জন্য কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নিয়েছেন।

তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে রয়েছে নাগরপুর ও দেলদুয়ার ৬ আসনের মাদকমুক্ত ও চাঁদাবাজমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা। স্থানীয় যুবক—যুবতীদের সংগঠিত করে তারা যাতে নির্মল ও স্বচ্ছ সমাজের অংশ হতে পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য তিনি বিভিন্ন সামাজিক, খেলাধুলা ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করছেন।

ডা. আব্দুল হামিদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও লক্ষ্যণীয়। ভারতের লখনৌ এবং কলকাতা থেকে তিনি চিকিৎসা সেবার জন্য বিশেষ পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন। এটি তার দীর্ঘ দিনের নিরলস পরিশ্রম ও সমাজসেবার স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য হয়।

নাগরপুরের বাসিন্দারা ডা. আব্দুল হামিদের কার্যক্রমকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করছেন। তারা বলছেন, “ডা. হামিদ শুধু একজন চিকিৎসক নন, তিনি আমাদের এলাকার উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা এবং মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রতীক।”

প্রার্থী হিসেবে তিনি আরও ঘোষণা করেছেন যে, নির্বাচিত হলে নাগরপুর ও দেলদুয়ার ৬ আসনকে দেশের একটি রোল মডেল হিসেবে গড়ে তোলা হবে। শিক্ষার মান উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা প্রসার, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং দরিদ্র ও মেধাবী মানুষদের পাশে থাকার মাধ্যমে আসনটি হবে উদাহরণস্বরূপ।

সরাসরি মানুষের সাথে সংযোগ স্থাপন ও সামাজিক দায়বদ্ধতার মাধ্যমে ডা. আব্দুল হামিদ আশা ব্যক্ত করেছেন যে, নাগরপুর ও দেলদুয়ার উপজেলা হবে উন্নয়ন ও মানবিকতার আদর্শ। তার নেতৃত্বে টাঙ্গাইল—৬ আসনের প্রতিটি মানুষ উপকৃত হবে এবং তিনি তাদের স্বপ্নের বাস্তবায়ন করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *