নাটকের দৃশ্যে শারীরিক স্পর্শ, ইরানে তদন্তের মুখে নাট্যদল

বিনোদন ডেস্ক:

মঞ্চনাটকের একটি দৃশ্যে সহ-অভিনেতার বুকে মাথা রাখার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরানে একটি নাট্যদলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু হয়েছে। দেশটির সরকারি কৌঁসুলিরা ওই দৃশ্যকে ‘সামাজিক রীতিনীতি’ লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে মামলাটি করেছেন।

‘তেহরান প্যারিস তেহরান’ নামের নাটকটিতে সারা নামে এক তরুণীর গল্প তুলে ধরা হয়েছে। বাবার হত্যার প্রতিশোধ নিতে তেহরান থেকে প্যারিসে যান তিনি। পরে আবার ইরানে ফিরে আসেন।

নাটকের একটি দৃশ্য প্রকাশ্যে আসার পরই তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। ওই দৃশ্যে অভিনেত্রী ফাতেমেহ মাসৌাদিফাকে সহ-অভিনেতা মেহরদাদ সেদিঘিয়ানের বুকের দিকে মাথা ঝুঁকিয়ে থাকতে দেখা যায়। অভিনেতার হাতও তখন অভিনেত্রীর মাথার ওপর ছিল বলে মনে হয়।

ইরানের ইসলামি আইন অনুযায়ী, আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই—এমন নারী ও পুরুষের মধ্যে প্রকাশ্যে শারীরিক সংস্পর্শ নিষিদ্ধ। মঞ্চে অভিনয়ের ক্ষেত্রেও এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে নাটকটির প্রযোজনা সংস্থা বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে। ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’-এর প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি দাবি করেছে, খুব কাছ থেকে এবং সংকীর্ণ কোণ থেকে ধারণ করা মোবাইল ভিডিওর কারণে অভিনেতা-অভিনেত্রীকে বাস্তবের তুলনায় বেশি কাছাকাছি মনে হচ্ছে।

প্রযোজনা সংস্থাটি আরও দাবি করেছে, বিতর্কিত দৃশ্যে অভিনয় করা দুই চরিত্র আসলে ভাই-বোন। ফলে ইসলামি আইনের দৃষ্টিতে তাদের মধ্যে শারীরিক স্পর্শ নিষিদ্ধ নয়।

সংস্থাটির ভাষ্য, নাটকের একটি সংকটপূর্ণ মুহূর্ত তুলে ধরতেই ওই দৃশ্যটি রাখা হয়েছিল।

এর আগে চলতি সপ্তাহেই কোম শহরের একটি আপিল আদালত গায়িকা পারাস্তুা আহমাদি এবং আরও সাতজন সংগীতশিল্পীর সাজা বহাল রাখে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইউটিউবের আয়োজিত একটি কনসার্টে হিজাব ছাড়া গান গাওয়ার কারণে তাদের সাজা দেওয়া হয়েছিল।

আদালতের রায়ে প্রত্যেককে ৭৪টি বেত্রাঘাতের সাজা দেওয়া হয়। পাশাপাশি দুই বছরের জন্য তাদের গান পরিবেশন ও ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *