মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর এলাকায় অবস্থিত ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগে দিন দিন বাড়ছে অপরাধীদের দৌরাত্ম্য। বর্তমানে ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটি ৫০০ শয্যায় উন্নীত হয়েছে। ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত হাসপাতাল চত্বরে অবাধে বিচরণ করছে বিভিন্ন অপরাধী চক্র—এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী রোগী ও তাদের স্বজনরা।
জানা গেছে, হাসপাতালের অরক্ষিত পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে অপরাধীরা চুরি, ছিনতাই, মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসার মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠেছে, অপরাধীরা ওয়ার্ডে ঢুকে রোগীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা-পয়সা, মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিচ্ছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এবং প্রেস ক্লাব প্রতিনিধিসহ ১৬ সদস্যের একটি হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটি থাকলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
হাসপাতালের সুপারিন্টেন্ডেন্ট ডা. এম এ বাশার জানান, “এই বিশাল হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে মাত্র তিনজন নিরস্ত্র প্রহরী রয়েছে, যারা তিন শিফটে দায়িত্ব পালন করেন। একজন প্রহরীর পক্ষে পুরো হাসপাতাল এলাকা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তাছাড়া তারা নিরস্ত্র হওয়ায় অপরাধীরা ভয় পায় না, বরং উল্টো তাদের হুমকি দেয়।”
তিনি আরও বলেন, “হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদারে স্থায়ীভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োগের জন্য একাধিকবার জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে আবেদন করা হয়েছে। বিভিন্ন সভা-সেমিনারেও বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে, কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।”
এ পরিস্থিতিতে হাসপাতাল ব্যবহারকারী সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছেন। তারা দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে অপরাধীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে মাননীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।