নারায়ণগঞ্জ পপুলার ডায়াগনস্টিকে ‘সময়ক্ষেপণে’ রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ, তদন্তের দাবি

মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:

নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাড়ায় অবস্থিত পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এমআরআই (MRI) করাতে এসে সময়ক্ষেপণের কারণে এক ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১ এপ্রিল) এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্বজনদের অভিযোগ, শ্বাসকষ্ট ও ক্যান্সারে আক্রান্ত ওই রোগীকে দ্রুত সেবা না দিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় রাখা হয়। তাদের দাবি, যথাসময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হতো। তারা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মীদের গাফিলতির কারণে এ মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এবং প্রতিষ্ঠানটির সামনে বিক্ষোভ ও হট্টগোল করেন। এ ঘটনায় তারা উপযুক্ত বিচার দাবি করেছেন।

অন্যদিকে, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি কোনো হাসপাতাল নয়, বরং একটি রোগ নির্ণয় কেন্দ্র, যেখানে চিকিৎসা দেওয়া হয় না। তাদের ভাষ্যমতে, রোগীটি এমআরআই করানোর জন্য আসেন এবং তার শারীরিক অবস্থা খারাপ থাকায় দায়িত্বরত চিকিৎসক দ্রুত তাকে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

কর্তৃপক্ষের দাবি, রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে নিচেই তার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে (হার্ট অ্যাটাক) মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনায় তাদের কোনো গাফিলতি নেই বলেও দাবি করা হয়েছে। তারা আরও জানায়, রোগীটি আগে থেকেই ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন এবং শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন, ফলে তার অবস্থা ছিল অত্যন্ত নাজুক।

প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলেন, এমআরআই একটি সময়সাপেক্ষ পরীক্ষা এবং রোগীদের সিরিয়াল অনুযায়ী সেবা দেওয়া হয়। তাদের মতে, পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে তাকে দ্রুত হাসপাতালে যেতে বলা হয়। তাই ‘ভুল চিকিৎসা’ বা গাফিলতির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে ‘দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত’ উল্লেখ করে নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।

এদিকে, ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *