মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত কিশোর গ্যাং ‘টেনশন’ গ্রুপের প্রধান রাইসুল ইসলাম সীমান্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মৌচাক এলাকা থেকে তাকে আটক করে স্থানীয় জনতা। পরে তাকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার রাইসুল ইসলাম সীমান্ত সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি পদপ্রার্থী শফিকুল ইসলাম শফিকের বড় ছেলে। এলাকায় তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, দখল, মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও কিশোরদের নিয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ‘টেনশন’ গ্রুপের নামে একটি সংঘবদ্ধ কিশোর গ্যাং গড়ে তুলে সীমান্ত এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার রাতে মৌচাক এলাকায় সীমান্তকে ঘোরাফেরা করতে দেখে ক্ষুব্ধ জনতা তাকে আটক করে। এ সময় উত্তেজিত লোকজন তাকে বেধড়ক মারধর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল বারিক জানান, “সীমান্তকে জনতা আটক করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ ১৮টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। আরও কোনো মামলা রয়েছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।”
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, সীমান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর মধ্যে মারামারি, অস্ত্র প্রদর্শন, ভাঙচুর, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় তার নেতৃত্বে কিশোরদের ব্যবহার করা হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, কিশোরদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে দলে টেনে এনে তাদের দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন তিনি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিগত কয়েক বছরে সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং কার্যক্রম আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। এর পেছনে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া কাজ করেছে বলেও তারা দাবি করেন। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান-এর আশ্রয়-প্রশ্রয়ে সীমান্ত ও তার সহযোগীরা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, কিশোর গ্যাং দমনে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। সিদ্ধিরগঞ্জসহ নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সীমান্তকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তার নেটওয়ার্ক ও সহযোগীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
এদিকে সীমান্তের গ্রেপ্তারের খবরে এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছেন অনেক বাসিন্দা। তারা আশা করছেন, এর মাধ্যমে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য কমবে এবং সাধারণ মানুষ স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে পারবে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতকে আদালতে সোপর্দের প্রস্তুতি চলছে এবং মামলাগুলোর তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।