মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী, ব্যুরো চিফ:
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে গিয়ে থানার ওসির সরকারি গাড়ি ভাঙচুরের শিকার হয়েছে। বুধবার (২৯ অক্টোবর) রাতে উপজেলার উচিৎপুরা ইউনিয়নের উচিৎপুরা বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যা মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মাহমুদপুর ইউনিয়নের মর্দাসাদি গ্রামের সঙ্গে উচিৎপুরা ও আগুয়ান্দি গ্রামের লোকজনের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। মাঝে-মধ্যে ছোটখাটো ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটে থাকে। কিন্তু বুধবারের ঘটনায় পরিস্থিতি চরমে পৌঁছে যায়।
ঘটনার দিন বিকালে মর্দাসাদি গ্রামের নোয়াব আলী, আক্তার ও জলিলসহ কয়েকজন সিএনজি চালিত অটোরিকশাযোগে উচিৎপুরা বাজারে যায়। সেখানে স্থানীয় নুরু মিয়া (৪৫)-এর সঙ্গে পূর্ববিরোধের জের ধরে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে নুরু মিয়াকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয়রা নুরু মিয়াকে উদ্ধার করে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে উচিৎপুরা ও মর্দাসাদি গ্রামের লোকজন লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। রাতেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়, যা প্রায় আধাঘণ্টা ধরে চলে। সংঘর্ষে আরও দুইজন আহত হন বলে জানা গেছে।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে আড়াইহাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। তবে উত্তেজিত জনতা পুলিশের উপস্থিতিতেও হামলা চালায় এবং থানার ওসির ব্যবহৃত সরকারি ডাবল কেবিন পিকআপ গাড়িতে ভাঙচুর চালায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, “পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে। ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।”
এদিকে সংঘর্ষের পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গ্রামজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে যেন পুনরায় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দুই গ্রামের এই বিরোধ পুরনো হলেও দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে।