
মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
পরিবেশ দূষণ রোধে নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন শপিং ব্যাগের ব্যবহার, মজুদ, বিক্রয় ও বাজারজাতকরণ বন্ধে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। অভিযানে দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ২৬৩ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন শপিং ব্যাগ জব্দ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার মো. আরিফ ইশতিয়াক। অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তর, নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং জেলা পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক টিটু বড়ুয়া ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রসিকিউশন পরিচালনা করেন।
অভিযান চলাকালে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ৬ক ধারা এবং ১৫-এর ৪(খ) ধারা অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নিষিদ্ধ পলিথিন শপিং ব্যাগ উৎপাদন, মজুদ, বিক্রয় ও বাজারজাতকরণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতে কাঁচপুর এলাকার শামীম হোসেন স্টোর থেকে ১৬০ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন শপিং ব্যাগ জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিকে ৭ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। এছাড়া মোহাম্মদীয়া প্যাকেজিং নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান থেকে ১০৩ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন শপিং ব্যাগ জব্দ করে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পলিথিন শপিং ব্যাগ পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এসব পলিথিন সহজে মাটিতে মিশে না যাওয়ায় মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়, ড্রেনেজ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয়, জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এবং নদী-খালসহ বিভিন্ন জলাশয়ের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া প্রাণী ও জলজ জীববৈচিত্র্যের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এসব কারণে সরকার বহু আগেই নির্দিষ্ট ধরনের পলিথিন শপিং ব্যাগ উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার ও বাজারজাতকরণ বন্ধে সারা দেশে নিয়মিতভাবে মোবাইল কোর্ট ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। যারা আইন অমান্য করে নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদন, মজুদ বা বিক্রয় করবেন, তাদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একই সঙ্গে ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণের প্রতি পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যাগ, যেমন কাপড়, পাট বা কাগজের ব্যাগ ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের মতে, পরিবেশ রক্ষায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণই টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করার অন্যতম পূর্বশর্ত।