মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
দীর্ঘ কয়েক মাসের অবহেলা, খানাখন্দ আর দুর্ভোগের অবসান হতে চলেছে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে। জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে শুরু হয়েছে সড়কটির সংস্কারকাজ। এতে প্রতিদিন এ পথে চলাচলকারী হাজারো শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষ, রিকশাচালক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ফতুল্লা ইউনিয়নের চাষাড়া-টু-সাইনবোর্ড লিংক রোড থেকে চানমারি আর্মি মার্কেটের পাশ দিয়ে বৃহত্তর ইসদাইর এলাকায় প্রবেশের সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে ছিল। রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, ভাঙা ড্রেনের স্ল্যাব এবং খানাখন্দের কারণে প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছিল। রিকশা ও অটোরিকশা উল্টে যাওয়া, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা, গাড়ির যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং পথচারীদের আহত হওয়ার ঘটনা ছিল প্রায় নিয়মিত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের। কারণ, এই সড়কের পাশেই রয়েছে তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হতো। একই সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী এবং শ্রমজীবী মানুষেরও দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়।
এ অবস্থায় জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির একদিন কার্যালয়ে যাওয়ার পথে নিজ চোখে সড়কটির বেহাল চিত্র প্রত্যক্ষ করেন। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দেখে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসনের নিজস্ব তহবিল থেকে জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি সংস্কারের নির্দেশ দেন।
জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী গত ৩০ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার সকাল থেকেই সংস্কারকাজ শুরু হয়। জনগণের দুর্ভোগ কমাতে পুরো সড়ক একযোগে বন্ধ না করে এক পাশ দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রেখে অন্য পাশে মেরামতের কাজ পরিচালনা করা হয়। এতে যানজট ও জনদুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসে।
পরবর্তীতে বুধবার (১৫ জুলাই ২০২৬) সড়কের বাকি অংশের সংস্কারকাজও দ্রুতগতিতে শুরু করা হয়। প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে রড, সিমেন্ট, ইটের সুরকি ও বালু ব্যবহার করে টেকসই ঢালাইয়ের মাধ্যমে পুরো সড়কটি নতুন করে নির্মাণ করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে দীর্ঘদিন সড়কটি টেকসই থাকে এবং জনসাধারণ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, “জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করাই প্রশাসনের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব। একটি রাস্তার কারণে যদি প্রতিদিন শিক্ষার্থী, রিকশাচালক ও সাধারণ মানুষ কষ্ট পায়, তাহলে সেটি দ্রুত সমাধান করা জরুরি। জনকল্যাণ ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই আমরা কাজ করছি। মানুষের সমস্যার দ্রুত সমাধানে জেলা প্রশাসন সবসময় আন্তরিক থাকবে।”
জেলা প্রশাসকের এই দ্রুত ও মানবিক উদ্যোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক সন্তোষ দেখা গেছে। এলাকাবাসী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, পরিবহনচালক ও ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা সড়কটির কারণে চরম দুর্ভোগে ছিলেন। অনেকেই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। অবশেষে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে সমস্যার সমাধান হওয়ায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একজন জেলা প্রশাসক নিজে সড়কের অবস্থা দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বেড়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, জেলার অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর প্রতিও একই ধরনের গুরুত্ব দেওয়া হবে।
প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংস্কারকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পুরো কাজ শেষ করে সড়কটি যান চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। কাজ শেষ হলে এ পথে চলাচলকারী হাজারো মানুষ নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারবেন, পাশাপাশি দীর্ঘদিনের ভোগান্তিরও স্থায়ী অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।