সূর্য আহমেদ মিঠুন:
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জ মাঠপাড়া এলাকায় সাংবাদিক তানজিনা আক্তার লিপি ও তাঁর তিন নাবালক সন্তানের ওপর হামলা, মারধর, জোরপূর্বক বাসা ছাড়তে বাধ্য করা, থানায় করা অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বাসার গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ উঠেছে বাড়ির মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক তানজিনা আক্তার লিপির অভিযোগ, গত ১৬ আগস্ট রোববার বাড়ির মালিকপক্ষের লোকজন ও মশিউর রহমান মেরুনের নেতৃত্বে একদল লোক তাঁর বাসার দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় তাঁকে ও তাঁর তিন সন্তানকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় তাঁর হাত ছেঁচে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল-ঘুষি মেরে জখম করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি। এমনকি তাঁর মাথার চুলও কেটে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এই সাংবাদিক।
তানজিনা আরও অভিযোগ করেন, তাঁকে বাসা ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং থানায় করা অভিযোগ প্রত্যাহার করতে ভয়ভীতি দেখানো হয়। তাঁর দাবি, সন্তানদের চরম ভোগান্তিতে ফেলতে বাসার গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় তাঁর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও পতিতার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগসংবলিত একটি স্ট্যাম্পে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ বা সংবাদ প্রকাশ না করার জন্যও চাপ দেওয়া হয়। তবে তিনি ওই কাগজে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান বলে দাবি করেন।
তানজিনা জানান, ঘটনার পর তাঁর বোন একাধিকবার বন্দর থানায় গিয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানান। পরে চতুর্থবার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে ও তাঁর সন্তানদের উদ্ধার করে বলে দাবি করেন তিনি।
একতরফা সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ
এদিকে, ঘটনার পর কয়েকটি গণমাধ্যমে তাঁকে জড়িয়ে একতরফা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাংবাদিক তানজিনা আক্তার লিপি।
তাঁর দাবি, এসব প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য নেওয়া হয়নি। বরং বাড়ির মালিক মোরশেদা, তাঁর ভাতিজা মশিউর রহমান মেরুন এবং তাঁদের পক্ষে অবস্থান নেওয়া কয়েকজন ব্যক্তির বক্তব্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।
তানজিনা বলেন, কোনো ঘটনার সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নেওয়া সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ নীতি। তাঁর বক্তব্য না নিয়ে শুধু বাড়ির মালিকপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করায় তিনি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
তিনি দেশের গণমাধ্যমগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাঁর বক্তব্য না নিয়ে শুধু প্রভাবশালী বাড়ির মালিক ও তাঁদের পক্ষের লোকজনের বক্তব্যের ভিত্তিতে তাঁকে নিয়ে কোনো সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেছেন।
বিচার ও সহযোগিতা চেয়েছেন ভুক্তভোগী
সাংবাদিক তানজিনা আক্তার লিপির অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে বাড়ির মালিকপক্ষ ও মশিউর রহমান তাঁকে মামলা ও অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।
তিনি ১৬ আগস্ট বাড়ির সামনে তাঁকে ও তাঁর সন্তানদের ওপর সংঘটিত হামলা ও নির্যাতনের সুষ্ঠু তদন্ত, তাঁর কাছ থেকে নিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধারে ব্যবস্থা এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে সাংবাদিক সমাজ, পুলিশ প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের কাছে সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বাড়ির মালিক মোরশেদা, মশিউর রহমান মেরুন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যদের বক্তব্য এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে সংযুক্ত করা হবে।