নিরপেক্ষতা কঠোর করার প্রস্তাবে সুইজারল্যান্ডে গণভোট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

সুইজারল্যান্ডের নিরপেক্ষতার আরও কঠোর সংস্করণ গ্রহণের প্রস্তাব নিয়ে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রাথমিক ফলাফলে ধারণা করা হচ্ছে, ভোটাররা প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করতে যাচ্ছেন। প্রস্তাবটি পাস হলে সুইজারল্যান্ডের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং ন্যাটোর সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্রে বড় ধরনের বিধিনিষেধ তৈরি হতো।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এসআরএফের সর্বশেষ গণভোটের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি ভোটার সুইস সংবিধানে নিরপেক্ষতার একটি কঠোর ও নির্দিষ্ট সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন।

১৮১৫ সালে নেপোলিয়নিক যুদ্ধের অবসানের পর থেকে আন্তর্জাতিকভাবে সুইজারল্যান্ডের নিরপেক্ষতা স্বীকৃত। তবে সরকার কীভাবে এই নিরপেক্ষতা বাস্তবায়ন করবে, তা সংবিধানে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ নেই।

ডানপন্থী সুইস পিপলস পার্টি (এসভিপি) দাবি করেছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর বার্ন সরকার মস্কোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় সুইজারল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী নিরপেক্ষতার অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রস্তাবটির পক্ষে প্রচারণাকারীরা দেশজুড়ে পোস্টার লাগিয়ে ভোটারদের ‘যুদ্ধ নয়, নিরপেক্ষতাই চাই’ স্লোগানে ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। পোস্টারগুলোতে শান্তির প্রতীক হিসেবে সাদা কবুতরের ছবিও ব্যবহার করা হয়েছে।

বিভিন্ন জনমত জরিপেও প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। সাম্প্রতিক একটি জরিপে ৬৮ শতাংশ ভোটার প্রস্তাবের বিপক্ষে এবং ৩১ শতাংশ পক্ষে মত দিয়েছেন।

বার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোপীয় রাজনীতির অধ্যাপক ফাবিও ওয়াসারফালেন বলেন, সুইজারল্যান্ডের ভোটাররা নিরপেক্ষতাকে সমর্থন করেন। তবে একই সঙ্গে তারা বর্তমানে সরকার যেভাবে এই নীতি বাস্তবায়ন করছে, সেটিও অনুমোদন করেন।

তিনি বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার পক্ষেও সুইস জনগণের সাধারণভাবে সমর্থন রয়েছে এবং তারা এতে পরিবর্তন চান না।

প্রস্তাবটির লক্ষ্য ছিল সংবিধানে এমন বিধান যুক্ত করা, যাতে আক্রান্ত না হলে সুইজারল্যান্ড কোনো সামরিক বা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিতে কিংবা তার সঙ্গে সহযোগিতা করতে না পারে। পাশাপাশি জাতিসংঘের অনুমোদন ছাড়া কোনো নিষেধাজ্ঞায় অংশ নেওয়া থেকেও দেশটিকে বিরত রাখার কথা বলা হয়েছে।

প্রস্তাবটির সমর্থকদের দাবি, সুইজারল্যান্ডের নিরপেক্ষতা অতীতে দেশটির জন্য সুফল বয়ে এনেছে। এর ফলে দেশটি দুটি বিশ্বযুদ্ধেই সরাসরি যুদ্ধে জড়ায়নি। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ অবস্থানের কারণে বার্ন সংঘাতে জড়িত বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে শান্তি আলোচনায় ‘সদিচ্ছার মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে ভূমিকা রাখার সুযোগ পায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *