স্বাধীন সংবাদ খেলা:
ঢাকার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের সময় বাংলাদেশের বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামের পারফরম্যান্স ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য অনুপ্রেরণার। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন ঠিকই বলেছেন, অনেক সময় দলের একজন পারফরমার ঝলমলে খেলার পরও আড়ালে থেকে যান। তিনি বলেন, “তাইজুল ভাইয়ের পারফরম্যান্স অনেকে খুব বেশি হাইলাইট করতে চায় না, বা করে না, বা করার সুযোগ হয় না।”
সংবাদমাধ্যমের আলো ছাড়া নিজেকে টেস্টের জন্য প্রস্তুত রাখেন এই বাঁহাতি স্পিনার। কিন্তু মাঠে তার অবদান কম নয়। দলকে জেতাতে যে অবদান তিনি দেন, তা প্রায়ই নিভৃতে থাকে। আর সেই কারণেই তিনি একের পর এক মাইলফলক ছুঁয়ে যাচ্ছেন, এমন উচ্চতায় যেখানে অনেকেই তাঁর পেছনে পড়ে থাকেন।
মিরপুর টেস্টের চতুর্থ দিনেই তাইজুল সাকিব আল হাসানকে (২৪৬ উইকেট) টপকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ টেস্ট উইকেটশিকারি হন। তবে তাঁর জন্য আরেকটি বিশেষ মুহূর্ত পঞ্চম দিনের সকালে আসে। ২৪৯ উইকেট নিয়ে দিন শুরু করা বাঁহাতি স্পিনার অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইনকে বিদায় করে ২৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন। তিনি এই কীর্তি প্রথম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে অর্জন করেন।
অভিনব বিষয় হলো, ইতিহাসে বাঁহাতি স্পিনারদের মধ্যে এত কম ম্যাচে এই মাইলফলকে পৌঁছেছেন। মাত্র ৫৭ টেস্ট খেলে তিনি ২৫০ উইকেট সংগ্রহ করেছেন, যা শ্রীলঙ্কান কিংবদন্তি রঙ্গনা হেরাথের সমান। মিরপুর টেস্টে দুই ইনিংসে ৪টি করে ৮ উইকেট নেন তাইজুল। পুরো সিরিজে তিনি ১৩ উইকেট সংগ্রহ করে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
মুশফিকুর রহিমের শততম টেস্টে সেঞ্চুরি ও হাফ-সেঞ্চুরি করার দিনে তাইজুলও রয়েছেন স্বীকৃতির আলোতে। তিনি হয়েছেন সিরিজের সেরা খেলোয়াড়। এটি তার তৃতীয়বারের মতো ‘ম্যান অব দ্য সিরিজ’ হওয়া। টেস্টে সবচেয়ে বেশি সিরিজসেরা হওয়ার রেকর্ডধারী সাকিব আল হাসানকে (৫ বার) অনুসরণ করতে গিয়ে তাইজুলও অনবরত চেষ্টা করছেন।
তবে সকল প্রাপ্য স্বীকৃতি এখনো তার ভাগ্যে জোটে না। তার নিভৃতে কাজ করা, দলের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করা এবং সাফল্য এনে দেওয়ার প্রক্রিয়া প্রায়ই সংবাদমাধ্যমে ঠিকভাবে উঠে আসে না। এজন্য নাজমুল হোসেন সংবাদমাধ্যমকে তাইজুলের বিষয়ে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “তাইজুল ভাই নীরবে নিজের কাজ করে যান। পারফরম করা ক্রিকেটারদের হাইলাইট করলে আমাদের টেস্ট ক্রিকেটও আরও ওপরে যাবে। তাঁদের পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা বাড়ালে মানুষের মধ্যেও টেস্ট ক্রিকেটের গুরুত্ব বাড়বে।”
তাইজুল ইসলাম কেবল উইকেট শিকারী নন, তিনি বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটকে এগিয়ে নেওয়ার এক অনুপ্রেরণার প্রতীক। তাঁর নিভৃতে পরিশ্রম, দলের জন্য উৎসর্গ এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স বাংলাদেশের ভবিষ্যত টেস্ট ক্রিকেটকে আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি বহন করছে।