নেত্রকোনা কেন্দুয়ায় প্রভাবশালী দুই ভাই জমি বিক্রির নামে প্রতারণা: সাধারণ জনগণ ভুক্তভোগী

নাছিমা খাতুন সুলতানা:

নেত্রকোনা জেলা কেন্দুয়া উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের রামপুর গ্রামে প্রভাবশালী দুই ভাই জমি বিক্রির নামে সাধারণ জনগণকে লাখ লাখ টাকা দিয়ে প্রতারণা করছেন। অভিযোগের 중심ে রয়েছেন মৃত হোসেন আলীর ছেলে মোঃ সাইদুল ইসলাম ও মোঃ হাদিস মিয়া। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত প্রায় তিন বছর ধরে উভয় ভাই মিলে গ্রামের সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে জমি বিক্রির কথা বলে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

গ্রামের মৃত আব্দুল জাহেদ মিয়ার ছেলে মোঃ আব্দুল আওয়ালের সঙ্গে ঘটনার প্রেক্ষাপট বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। অভিযোগ অনুসারে, উভয় ভাই আওয়ালকে আশ্বস্ত করে দাফে দাফে প্রায় ৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে জমি বিক্রির দলিল তাকে প্রদান করা হবে। তবে, আজ পর্যন্ত দলিল দেওয়া হয়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো গ্রাম ও এলাকার মানুষদের মধ্যে ক্ষোভ ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, দুই ভাই মিলে গ্রামের বিভিন্ন সাধারণ মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। তাদের শিকার হয়েছেন বহু পরিবার। এলাকাবাসী মনে করেন, মোঃ সাইদুল ইসলাম ও মোঃ হাদিস মিয়া উভয়ই প্রভাবশালী এবং প্রতারক চরিত্রের লোক। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে ঢাকার কিছু জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিক এবং মানবাধিকার কর্মী সরজমিনে উপস্থিত হয়ে গ্রামে তদন্ত করেছেন। তারা ভুক্তভোগী পরিবার এবং গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হন যে, টাকা দিয়ে জমি কেনার পরও দলিল প্রদান করা হয়নি।

এই ঘটনা নিয়ে তিনবার গ্রাম্য শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে মোঃ হাদিস মিয়া বাদী হয়ে কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন, যেখানে মোঃ আব্দুল আওয়ালসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। তবে ভুক্তভোগী পরিবার এবং গ্রামের সাধারণ মানুষ অভিযোগ করেছেন যে, এটি একটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা, যা তাদের হয়রানি করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।

গ্রামের ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “আমরা চাই আমাদের টাকা ফেরত দিতে হবে এবং জমি বিক্রির দলিল আমাদের হাতে পৌঁছাতে হবে। আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই, যাতে আমাদের সাথে অন্যায় না হয়।” ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছে মোঃ সেলিম মিয়া, সাইকুল মিয়া, মোঃ বাবুল মিয়া, মোঃ সাহেদ মিয়া, মোঃ বিল্লাল মিয়া, মোঃ খোকন মিয়া, মোঃ কামাল মিয়া, মোঃ শাহজাহান মিয়া, আব্দুল মজিদ, মোঃ সাদেক মিয়া, মোঃ হাব্বিউল্লাহ, মোঃ শামীম মিয়া, আবুল বাদশা, মাসুদ মিয়া, রফিকুল ইসলাম, মোঃ স্বপন মিয়া, রিপন মিয়া, তফসিল উদ্দিন, মোঃ আতাবুর রহমান, মোঃ আবু তাহের মিয়া, মোঃ সুরাফ উদ্দিন, আজিজুল মিয়া, মোঃ সুজন মিয়া, এমদাদুল হক, শেখ সাদি, মোঃ শামীম মিয়া, মোছাঃ রুভা আক্তার, সুফিয়া আক্তার, অরুন আক্তার, মুমিনা আক্তার, রহিমা খাতুন, রিনা আক্তার, নাজু আক্তার, নাসিমা আক্তার, আছিয়া খাতুনসহ আরও অনেকে।

স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, এই ধরনের প্রতারণা চলতে থাকলে যে কোনো সময় সংঘর্ষ বা দুর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এলাকাবাসী জেলা প্রশাসন ও পুলিশের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, প্রভাবশালী দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভুক্তভোগীদের অধিকার ও টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

নেত্রকোনা জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে জনগণের দাবী, যেন প্রভাবশালী ব্যক্তি নিজের প্রভাব ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করতে না পারে। গ্রামে এখন ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের নজরও কেন্দ্রীভূত হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের একজন সদস্য সাংবাদিকদের জানান, “আমরা চাই যে যারা এই প্রতারণার মূল হোতা তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আমরা চাই ন্যায়বিচার এবং আমাদের টাকা ও দলিল দ্রুত হাতে ফিরুক।”

স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে গ্রাম ও এলাকাবাসী এই ঘটনার সমাধানে দৃঢ় পদক্ষেপ আশা করছে, যাতে প্রভাবশালী দুই ভাই আরও লোককে প্রতারণার শিকার করতে না পারে।

এই ঘটনার মাধ্যমে নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ মনে করছেন, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা যদি নিয়ম মেনে না চলে এবং আইনকে বাঁচাতে না দেয়, তাহলে গ্রাম ও এলাকার শান্তি বিপন্ন হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *