মোশাররফ হোসেন জসিম পাঠান:
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা-এ পাঁচ বছর বয়সী শিশু মোছাঃ জান্নাতুল হত্যা মামলায় তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং শিশুটির পরিবার হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার কৈলাটি ইউনিয়নের হুগলী (জসিউরা) গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আর্শাদ মিয়ার মেয়ে মোছাঃ জান্নাতুল (৫) গত ৪ মে বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে বাড়ির পাশেই অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা করতে যায়। কিছুক্ষণ পর মেয়েটিকে দেখতে না পেয়ে তার মা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে বাজার থেকে দ্রুত বাড়িতে ফিরে আসেন শিশুটির বাবা।
পরিবার ও স্থানীয়রা দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও জান্নাতুলের কোনো সন্ধান পাননি। পরে শিশুটির বাবা কলমাকান্দা থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডি নম্বর ছিল ১৯৪। শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার তিন দিন পর স্থানীয় কৃষক রুহুল আমিন ধান কাটতে গিয়ে জুলহাস নামের এক ব্যক্তির ধানক্ষেতে শিশুটির মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে শিশুটির বাবা-মা ও স্বজনরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল-এর মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা মোঃ আর্শাদ মিয়া বাদী হয়ে কলমাকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।
পরবর্তীতে তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করে। তবে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতারকৃতদের বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করেনি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত জান্নাতুলের পরিবার একই গ্রামের কয়েকজনের বিরুদ্ধে সন্দেহ প্রকাশ করেছিল। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছিল।
শিশুটির পরিবার অভিযোগ করে জানায়, পূর্ব বিরোধের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনার রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে এ হত্যাকাণ্ডে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে পুরো এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, একটি নিষ্পাপ শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করার ঘটনায় তারা হতবাক। দোষীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেন তারা।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত আছে।