নাছিমা খাতুন সুলতানা:
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার গণ্ডা ইউনিয়নের মনকান্দা গ্রামে পূর্ববিরোধের জেরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার কেন্দুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুলাই ২০২৬ (শুক্রবার) দুপুর প্রায় ১২টার দিকে মনকান্দা গ্রামের মৃত নূর উদ্দিনের ছেলে মো. দুলাল মিয়া, তার ভাতিজা এবং তাদের সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে একই গ্রামের মৃত মঞ্জু খাঁর ছেলে মো. মাসুদ মিয়ার বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় বাড়িঘরে ভাঙচুর, লুটপাট এবং মারধরের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলাকারীরা নগদ অর্থসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে চলে যায়।
হামলার সময় মাসুদ মিয়া বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় নারী ও শিশুসহ পরিবারের অন্তত ছয়জন আহত হন। তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় মো. মাসুদ মিয়া বাদী হয়ে কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে মো. দুলাল মিয়াসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তদন্তে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো গ্রামজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ বছর আগে দুলাল মিয়ার মেয়ে শাকী মনি আক্তারের সঙ্গে মাসুদ মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তারা পরিবারের অমতে বিয়ে করে সংসার শুরু করেন। দীর্ঘ প্রায় তিন বছর পর সম্প্রতি ওই দম্পতি গ্রামে ফিরে আসেন। স্থানীয়দের ধারণা, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে এবং তারই জের ধরে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, এর আগেও মাসুদ মিয়ার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা এবং তাদের একটি অটোরিকশা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ভুক্তভোগী পরিবার নেত্রকোনার পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে এলাকায় আরও বড় ধরনের সংঘর্ষ বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।
তবে এই অভিযোগের বিষয়ে মো. দুলাল মিয়া বা অভিযুক্ত পক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করবে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।