মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ উদযাপনে নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রায়হান কবির। তিনি বলেন, বাংলা নববর্ষ আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক। তাই এ উৎসব সকল ভেদাভেদ ভুলে আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে উদযাপন করা উচিত।
আমাদের প্রতিবেদকের সাথে আলাপচারিতায় জেলা প্রশাসক বলেন, আমাদের এই সমাজে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধসহ যারা বসবাস করে, তাদের প্রত্যেকের আলাদা রঙ থাকলেও উৎসব পালনের ক্ষেত্রে আমরা একতাবদ্ধ। আমরা একত্রে মিলিত হয়ে আমাদের উৎসব আয়োজন করি।
তিনি আরও বলেন, সমাজে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে এবং উৎসবের সময় তারা ঐক্যবদ্ধ হয়—এই আয়োজন সেই সম্প্রীতির প্রতীক।
তিনি আরও যোগ করেন, “এখানে মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধসহ যারা আছে—আমরা সকলে মিলে একটি সুন্দর সমাজে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করি।”
তিনি আরও বলেন, আমরা সম্মিলিতভাবে দেশের জন্য কাজ করি এবং আমাদের সংস্কৃতির যে মেলবন্ধন আছে, সেটি বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে চাই। আমাদের সংস্কৃতির যে গৌরব এবং ঐতিহ্য, সেটি যেন আগামী প্রজন্ম ধরে রাখে—সেজন্য আমরা তাদের উৎসাহিত করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা আয়োজনের মাধ্যমে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, বৈশাখী মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করা হবে।
মোঃ রায়হান কবির নারায়ণগঞ্জবাসীকে পরিবার-পরিজনসহ উৎসবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সকলকে শৃঙ্খলা ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে নিরাপদভাবে নববর্ষ উদযাপন করতে হবে। একইসঙ্গে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা প্রদান করেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সকলের সম্মিলিত অংশগ্রহণে পহেলা বৈশাখ উৎসব প্রাণবন্ত ও আনন্দমুখর হয়ে উঠবে এবং নতুন বছর বয়ে আনবে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি।
জাতীয়ভাবে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে জেলা প্রশাসন, নারায়ণগঞ্জ কর্তৃক গৃহীত কর্মসূচি:
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে জেলা শিল্পকলা একাডেমি, নারায়ণগঞ্জে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে।
সকাল ৯টায় ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ চাষাড়াস্থ কেন্দ্রীয় পৌর শহীদ মিনার হতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার (লোকজ মেলা) উদ্বোধন করা হবে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে সকাল সাড়ে ৯টায় ‘জাতীয় সংগীত’ এবং ‘এসো হে বৈশাখ’ গান পরিবেশনের মাধ্যমে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-এর অনুষ্ঠানমালার শুভারম্ভ হবে।
সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে বর্ষবরণ, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
এদিনে স্থানীয় সকল কারাগার, হাসপাতাল ও শিশু পরিবারে (এতিমখানা) ঐতিহ্যবাহী খাবার (খৈ, মুড়ি-মুড়কি, বাতাসা ইত্যাদি) পরিবেশন করা হবে।
এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর এবং প্রত্নস্থান পানাম নগরী সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা এবং শিশু-কিশোর, ছাত্র-ছাত্রী, প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের বিনা টিকিটে প্রবেশের ব্যবস্থা করা এবং বাংলা নববর্ষের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।