সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় সরকারি ভিপি (ভেস্টেড প্রপার্টি) জমিতে ঘর নির্মাণের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিককে কৌশলে দোকানে ডেকে নিয়ে মব সৃষ্টি করে শারীরিক হেনস্তা ও ভিত্তিহীনভাবে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
জানা গেছে, পাটকেলঘাটার টাওয়ার রোডে ১/১ ক খতিয়ানের ভিপি জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। মামলাটি বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও কোনো ধরনের সংস্কার বা নির্মাণের অনুমতি ছাড়াই ওই জমিতে ঘর নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ চলছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উক্ত জমির ওপর নির্মিত দোকানসহ ঘরটি পার্শ্ববর্তী এক দোকানদার ১৮ লাখ টাকায় ক্রয় করেছেন এবং পরবর্তীতে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে দলিল সম্পন্ন করেছেন বলে একজন ক্রেতা স্বীকার করেন। তবে জমিটি মামলা চলমান থাকায় এ ধরনের ক্রয়-বিক্রয় ও নির্মাণ কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য চৌগাছা গ্রামের সাংবাদিক মনি ও সাতক্ষীরার সাংবাদিক রবিউলকে ফোন করে ডেকে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সেখানে তাদেরকে কৌশলে দোকানে নিয়ে গিয়ে একটি সংঘবদ্ধ দল (মব) সৃষ্টি করে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়। পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ ছাড়াই মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ক্ষোভ প্রকাশ করে নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলেন, সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হয়রানি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিপন্থী। অবিলম্বে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানান তারা।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি জানাজানি হলে প্রথমে দুই সাংবাদিককে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করা হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে নিতে তাদের আটক করে পুনরায় মব সৃষ্টি করা হয়। এমন অভিযোগ করেছেন একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি।
এ বিষয়ে তালা-পাটকেলঘাটা এলাকার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন বলে জানা গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে স্থানীয় জনসাধারণ।
অন্যদিকে, পাটকেলঘাটা থানা পুলিশের কাছেও সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরপেক্ষ ভূমিকার দাবি জানানো হয়েছে। সাংবাদিক সমাজ ও এলাকাবাসী আশা করছেন, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।