পুলিশ-প্রশাসনে ‘দোসর’ চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি সালাউদ্দিন খান পিপিএমের

মোঃআনজার শাহ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং মামলা ও তথ্য সংরক্ষণ সমন্বয়ক সালাউদ্দিন খান পিপিএম এক ভিডিও বার্তায় পুলিশ প্রশাসনসহ রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের এখনো বহাল থাকার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সাঁথিয়া উপজেলা শাখার সাবেক সদস্য সচিব হিসেবেও পরিচিত।
“দোসররা এখনো লুকিয়ে আছে” সালাউদ্দিন খানের অভিযোগ
ভিডিও বার্তায় সালাউদ্দিন খান দাবি করেন, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত থাকা ব্যক্তিরা এখনো প্রশাসনের নানা স্তরে লুকিয়ে আছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে তাঁর অভিযোগ। তিনি বলেন, এই চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে নতুন নিয়োগ ও পদায়ন দেওয়া হচ্ছে, যা তাঁর মতে একধরনের “গলদ”।

তিনি অভিযোগ করেন, রাতের ভোটে জড়িত থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ মামলা পরিচালনা হচ্ছে না এবং এ বিষয়ে এককভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সমাধান সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আইজিপি আলী হোসেন ফকিরকে সমর্থন
বক্তব্যে সালাউদ্দিন খান বর্তমান পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজি) আলী হোসেন ফকিরের প্রশংসা করেন এবং দাবি করেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন, যে কারণে একটি মহল তাঁর বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য করছে বলে তাঁর অভিযোগ। এই প্রক্রিয়ায় সহযোগিতাকারী হিসেবে তিনি দলের মহাসচিবসহ কয়েকজন কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করেন।

তিনি দাবি করেন, অতীতে যাঁরা সততা ও নীতির প্রশ্নে আপস করেননি এবং বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত হননি, এমন বেশ কয়েকজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার চাকরি এসপি পদমর্যাদা থেকে হারানোর অভিযোগও তিনি তুলে ধরেন।

সাবেক এসবি প্রধানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ:
সালাউদ্দিন খান তাঁর বক্তব্যে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেন, যার মধ্যে রয়েছে মিথ্যা মামলা সাজানো, গুম ও নির্যাতন-সংক্রান্ত অভিযোগ। এ ছাড়া তাঁর সহযোগী হিসেবে পরিচিত কয়েকজন কর্মকর্তা এখনো বিভিন্ন গোয়েন্দা ইউনিটে কর্মরত থাকার দাবিও তিনি করেন। উল্লেখ্য, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে বক্তার নিজস্ব বক্তব্য; এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে অভিযোগ:
বক্তব্যে সালাউদ্দিন খান দাবি করেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা-প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকা কিছু ব্যক্তি এখনো কারা প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন। এই অভিযোগের বিষয়েও স্বতন্ত্রভাবে কোনো তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা প্রসঙ্গ:
সালাউদ্দিন খান তাঁর বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিরাপত্তা প্রসঙ্গ উত্থাপন করে বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের পুত্র ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান হিসেবে তারেক রহমানের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি দাবি করেন, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে থাকা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার স্বার্থে যাচাই-বাছাই আরও জোরদার হওয়া প্রয়োজন।

নির্বাচন-পূর্ববর্তী নিপীড়নের অভিযোগ:
সালাউদ্দিন খান দাবি করেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিভিন্ন প্রার্থী ও পোলিং এজেন্টদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এখনো প্রশাসনে বহাল আছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়া ও মেধাতালিকা প্রণয়নে অনিয়মের অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি।

বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ:
বক্তব্যের শেষ অংশে সালাউদ্দিন খান দলের দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মী, ছাত্রদল-যুবদল-স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের কর্মীদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি জানান, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে মামলা-হয়রানির শিকার হওয়া নেতাকর্মীদের অনেকেই এখনো যথাযথ মূল্যায়ন পাননি বলে তাঁর ধারণা। এ প্রসঙ্গে তিনি নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও আন্দোলনের সময়কার বিভিন্ন সহযাত্রীর প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ ম্যান্ডেট নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে এবং দল ক্ষমতায় আসার পর সাবেক শাসনামলের দোসরদের বিরুদ্ধে ন্যায়সংগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি প্রত্যাশা প্রকাশ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *