পূর্বধলায় ডাকাতি মামলার বাদীকে মামলা তুলে নিতে প্রতিপক্ষের হুমকির অভিযোগ

মোশারফ হোসেন জসিম পাঠান:

নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার বৈরাটি ইউনিয়নের বিল কাউসী গ্রামে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের একটি মামলাকে কেন্দ্র করে বাদী পক্ষকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের মৃত হাছু মিয়ার ছেলে মোঃ হাবলু মিয়ার সঙ্গে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল মৃত মাহতাব উদ্দিনের ছেলে মোঃ স্বপন মিয়া ও মানিক মিয়া গংদের সঙ্গে। বিরোধের জের ধরে গত ১৬ জুন ২০২৫ (সোমবার) রাত প্রায় ৯টার দিকে হাবলু মিয়া হাঁসের ফার্ম বিক্রি করে বাজার থেকে টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে প্রতিপক্ষরা তার পথরোধ করে মারধর করে গুরুতর আহত করে এবং সঙ্গে থাকা টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর আহত মোঃ হাবলু মিয়া বাদী হয়ে বিজ্ঞ আমলী আদালত, পূর্বধলা, নেত্রকোনায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার সি.আর. নং ২৬৯ (১)/২৫। এতে মোঃ স্বপন মিয়াসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ৩/৪ জনকে আসামি করা হয়। নামীয় আসামিরা হলেন—স্বপন মিয়া, মানিক মিয়া, মোমেন মিয়া, হান্নান মিয়া ও রিপন মিয়া।

মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। এ অবস্থায় আসামিপক্ষ ও তাদের সহযোগীরা বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে চাপ ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বাদী বর্তমানে ন্যায়বিচারের আশায় নেত্রকোনা আদালতে নিয়মিত উপস্থিত হচ্ছেন।

এ ঘটনায় পুরো গ্রাম ও এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা থেকে প্রকাশিত কয়েকটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহে গেলে এলাকাবাসীর অনেকে জানান, পূর্বের বিরোধের জের ধরেই এ ঘটনা ঘটেছে এবং এতে এলাকায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে বাদী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বাদী পরিবার ও এলাকাবাসী।

এলাকাবাসীর মধ্যে মোঃ হারেজ মিয়া, আবু সাহিদ, মোঃ জবেদ আলী, মিজানুর রহমান, মোঃ সিদ্দিক মিয়া, মোঃ আবু কালাম, মোঃ ইদ্রিস মিয়া, মোঃ মর্ম আলী, আজাহারুল, মোঃ রুবেল মিয়া, মোঃ জজ মিয়াসহ কুলসুমা আক্তার, সাজিয়া আক্তার, ফাতেমা বেগম, হাওয়া আক্তার, নাদিয়া আক্তার, দিলোয়ারা আক্তার, সুফিয়া আক্তার, শিপা আক্তার ও হোলোদা আক্তারসহ আরও অনেকে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, বিষয়টি নিয়ে যে কোনো সময় বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *