আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘প্রকৃত কূটনীতি’ কিংবা ‘ভয়াবহ যুদ্ধ’—উভয় পরিস্থিতির জন্যই ইরান প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এবং পরে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
এক্সে দেওয়া বার্তায় আরাগচি বলেন, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও তিনি নিউইয়র্কে যুদ্ধের বার্তা প্রচারের জন্য আসেননি; বরং শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এসেছেন। তবে যেকোনো আগ্রাসনের মুখে ইরান দৃঢ় থাকবে এবং একই সঙ্গে কূটনীতির পথও খোলা রাখবে বলে জানান তিনি।
এদিকে এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, ইরান যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি জানান, শান্তির কোনো সুযোগ হাতছাড়া করতে চায় না তেহরান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান কূটনীতি ও যুদ্ধ—দুই পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন উপলক্ষে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছে ইরানি প্রতিনিধি দল। এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। ইরানের দাবি, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালু করা যেতে পারে।
আরাগচি জানান, ইরানের প্রস্তাবে যুদ্ধ বন্ধ, জব্দ করা ইরানি সম্পদ ফেরত দেওয়া, তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ তুলে নেওয়ার মতো বিষয় রয়েছে। এসব শর্ত পূরণ হলে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে তেহরান প্রস্তুত বলে জানান তিনি।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাঁদের প্রস্তাব স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ নিলে ইরানও হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে প্রস্তুত। তাঁর ভাষ্য, এসব শর্ত ইরানের অধিকার এবং তেহরান চায় যুক্তরাষ্ট্র সেই অধিকারকে সম্মান করুক।
আরাগচি আরও বলেন, ইরান সবসময় কূটনৈতিক উপায়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধের সমাধান চেয়েছে। তাঁর দাবি, ২০২৫ সালে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আলোচনার প্রস্তাব এলে তেহরান তা গ্রহণ করে এবং আলোচনা শুরু হয়। কিন্তু আলোচনার মাঝপথে ইরানে সামরিক অভিযান চালানো হয়।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতেও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল এবং ইরান তাতে সম্মত হয়েছিল বলে দাবি করেন আরাগচি। তাঁর অভিযোগ, সেই আলোচনার মধ্যেও ইরানকে লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান চালানো হয়।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কয়েক মাস আলোচনা চালিয়েছে। তবে তাঁর দাবি, একটি চুক্তি হওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই ওয়াশিংটন সেটি লঙ্ঘন করেছে।
এদিকে ইরানের প্রস্তাব সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক জবাব এখনও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানের কাছে পৌঁছায়নি বলে জানিয়েছেন আরাগচি। যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা প্রস্তাবটির কিছু শর্তের সমালোচনা করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যানের কথা প্রকাশ্যে জানানো হয়েছে।
তবে আরাগচির বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে চায়। তাঁর মতে, কূটনীতির ক্ষেত্রে সবসময়ই আশার সুযোগ থাকে এবং শান্তির কোনো সম্ভাবনা থাকলে তেহরান তা হাতছাড়া করতে চায় না।