স্বাধীন সংবাদ খেলা:
বিপিএলের ২০২৫ সালের নিলামে সবাইকে চমকে দিয়েছেন নাঈম শেখ। সর্বোচ্চ মূল্যে বিক্রি হওয়া খেলোয়াড় হিসেবে তিনি একরকম নজির সৃষ্টি করেছেন। নিলামে নাঈম বিক্রি হয়েছেন ১.১০ কোটি টাকায়। নিলামের পর তিনি সংবাদমাধ্যমকে নিজের অনুভূতি জানিয়েছেন এবং পুরো অভিজ্ঞতার কিছু দিক তুলে ধরেছেন।
গতকাল একটি জাতীয় দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাঈম বলেছেন, “সত্যি কথা বলতে, প্রথমে খুব বেশি মনোযোগ দিইনি। তিনটি দলের আগ্রহের খবর শুনেছিলাম, তাই জানতাম আনসোল্ড হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বেস প্রাইসে গেলেও কোনো সমস্যা হতো না। পুরো নিলাম দেখিনি, তবে নার্ভাস লাগছিল। আমাদের জন্য নিলাম নতুন। এর আগে সবসময় ড্রাফট প্রক্রিয়া হয়েছে। তাই অনুভূতিটা আলাদা ছিল… আর ভালোও লেগেছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি জানতাম দুই–তিনটি দল আমাকে ডাকবে। কিন্তু এত ওপরে যাবে, প্রথম কলের সবচেয়ে দামী খেলোয়াড় হব—এটা ভাবিনি। রিপন খুব ভালো করছে, তার বড় দাম পাওয়ার কথা ছিল। হৃদয়ও দারুণ ফর্মে আছে। লিটন ভাই আছেন। আরও অনেকেই আছেন যারা হয়তো বেশি পাওয়ার যোগ্য ছিল, কিন্তু পায়নি। সরাসরি নিলামে এটাই স্বাভাবিক।”
নিজের নাম ঘোষণার মুহূর্ত নিয়ে নাঈম বলেন, “এনসিএল চলছিল, তাই সবাই ফোনে নিলাম দেখছিল। কে আগে যাবে—লিটন ভাই নাকি আমি—এসব নিয়ে উত্তেজনা ছিল। আমরা মাঠ থেকে বাসে ফিরছিলাম, তখনই আমার নাম ঘোষণা করা হয়। সবাই হঠাৎ চিৎকার দিয়ে ওঠে, উদযাপন শুরু হয়। খুব মজার এবং আবেগের মুহূর্ত ছিল।”
নিলাম প্রক্রিয়া কেমন লাগল জানতে চাইলে তিনি বলেন, “শেষ নিলামের কিছুটা মনে আছে—তামিম ভাই, সাকিব ভাইরা তখন বড় অঙ্ক পেয়েছিলেন। তখন এসব দেখে অনুপ্রাণিত হতাম। কিন্তু সরাসরি নিলামে আসার পর কখনো এই অভিজ্ঞতা হয়নি। এবার হয়ে গেল… খুব মজা লেগেছে।”
বড় অঙ্কের টাকা মানেই বাড়তি চাপ—এমন প্রশ্নের জবাবে নাঈম জানান, “ঢাকা লিগেই আমি সবচেয়ে বেশি আয় করা শীর্ষ পাঁচ খেলোয়াড়ের একজন। নাম বলব না, তবে টাকা থেকে যে প্রত্যাশা আসে, সেটা আমার জন্য নতুন নয়। কম দামেও গেলে কাজের প্রতি নিবেদন বদলাত না। পেশাদার ক্রিকেটে বহু বছর আছি, দায়িত্ব বুঝি। এবারও আগের মৌসুমের মতো দলকে রান করিয়ে জিতিয়ে সাহায্য করতে চাই।”
নাঈম শেখের এই অভিজ্ঞতা বিপিএল নিলামের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। খেলোয়াড় নিজেই জানিয়েছেন, টাকা বা জনপ্রিয়তা নয়, দলের জন্য অবদান রাখা ও মাঠে সঠিক পারফরম্যান্স প্রদর্শনই তার মূল লক্ষ্য।