মোঃআনজার শাহ
আর মাত্র দুটি দিন। আগামী ১৬ মে শনিবার কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এক ঐতিহাসিক পথসভা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এই মহাসমাবেশকে সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও সর্বাঙ্গসুন্দরভাবে আয়োজন করতে মাঠের সার্বিক পরিস্থিতি ও প্রস্তুতি কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন বরুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসাদুজ্জামান রনি।
প্রশাসনের কড়া নজরে মাঠের প্রতিটি বিষয়,পরিদর্শনকালে ইউএনও আসাদুজ্জামান রনি মঞ্চ নির্মাণ, আসন বিন্যাস, আলোকসজ্জা, শব্দব্যবস্থা ও নিরাপত্তা পরিকল্পনাসহ অনুষ্ঠানের সামগ্রিক প্রস্তুতির প্রতিটি দিক গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। মাঠের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে দেখেন তিনি। কোথাও কোনো ঘাটতি আছে কিনা, নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যাপ্ত কিনা, জনসাধারণের চলাচলের পথ সুগম কিনা এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, লক্ষ্মীপুর খেলার মাঠ এখন পুরোপুরি প্রস্তুতির চূড়ান্ত পর্যায়ে। বিশাল মঞ্চ নির্মাণ সম্পন্নের পথে, শামিয়ানার নিচে সারি সারি আসন সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো হচ্ছে। মাঠের চারপাশে ব্যানার, ফেস্টুন ও রঙিন আলোকসজ্জায় তৈরি হয়েছে এক উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রশাসনের পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীরাও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্কতা,সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে লক্ষ্মীপুর মাঠ ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনও সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ইউএনও আসাদুজ্জামান রনি নিজে উপস্থিত থেকে নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়গুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করেন এবং কোনো ধরনের ত্রুটি না রাখতে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেন।
সাধারণ মানুষ যেন কোনো ভোগান্তি ছাড়াই নিরাপদে পথসভায় অংশ নিতে পারেন, মাঠে প্রবেশ থেকে শুরু করে প্রস্থান পর্যন্ত সবকিছু যেন সুচিন্তিত ও সুশৃঙ্খল থাকে সেই লক্ষ্যে প্রশাসন নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
প্রত্যাশায় উদ্বেলিত বরুড়াবাসী,প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই পথসভাকে ঘিরে বরুড়া উপজেলায় তৈরি হয়েছে এক অভূতপূর্ব উত্তেজনা ও প্রত্যাশার আবহ। ইউনিয়ন থেকে ইউনিয়নে, গ্রাম থেকে গ্রামে সর্বত্রই বইছে উদ্দীপনার ঢেউ। তরুণ থেকে প্রবীণ সকলেই এই ঐতিহাসিক সমাবেশে যোগ দিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ এই পথসভায় অংশ নিতে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র মতে, এই পথসভা বরুড়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক হয়ে উঠবে। প্রশাসন ও দলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই আয়োজন সম্পূর্ণ সফল হবে বলে সংশ্লিষ্ট সকলেই দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।