নুরুজ্জামান সাউদ:
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি মাদকের আস্তানায় র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, দেশীয় অস্ত্র, নগদ অর্থ এবং নজরদারিতে ব্যবহৃত ড্রোন ও সিসি ক্যামেরা উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় মাদক কেনাবেচা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৩ জনকে আটক করা হয়।
আজ বুধবার (৬ মে) বেলা ১০টায় সিদ্ধিরগঞ্জে অবস্থিত র্যাব-১১-এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এএইচ এম সাজ্জাদ হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে শহরের বোয়ালিয়া খাল লিচুবাগ এলাকায় র্যাবের একটি আভিযানিক দলের ওপর মাদক ব্যবসায়ীরা অতর্কিত হামলা চালায়। এতে র্যাবের তিন সদস্য কুপিয়ে আহত হন। এই ঘটনার পর থেকেই অপরাধীদের দমনে সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে র্যাব ও পুলিশ।
এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে দেওভোগ নূর মসজিদ এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের আস্তানা হিসেবে পরিচিত একটি ছয়তলা ও একটি দোতলা বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অভিযানে ১৩ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
জব্দকৃত মালামাল
অভিযান শেষে ওই ভবন দুটি তল্লাশি করে উদ্ধার করা হয়েছে:
অস্ত্র ও গোলাবারুদ: ৬ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ৭টি চাইনিজ কুড়াল, ২টি রামদা, ৩টি চাপাতি এবং ১০টি ছুরি-চাকু।
মাদকদ্রব্য: ২৩৫ কেজি গাঁজা এবং ১১ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট।
নগদ অর্থ ও প্রযুক্তি: মাদক বিক্রির নগদ ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা। এছাড়া আস্তানার নিরাপত্তায় ব্যবহৃত ৪টি সিসি ক্যামেরা এবং ১টি ড্রোন জব্দ করা হয়েছে।
র্যাব-১১-এর অধিনায়ক জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া সরকারি কাজে বাধা এবং র্যাবের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। অপরাধীদের দমনে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, এই অভিযানের ফলে ওই এলাকার কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য অনেকটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।