সৈয়দপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় অবস্থিত ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সচল থাকা প্রথম ও তৃতীয় ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন এখন শূন্য।
এর আগে সোমবার ভোরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর মঙ্গলবার ভোরে একই কারণে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটও বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিট সংস্কারকাজের কারণে প্রায় ছয় বছর ধরে বন্ধ রয়েছে।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সোমবার ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে প্রথম ইউনিট এবং মঙ্গলবার ভোর ৫টা ৫ মিনিটে তৃতীয় ইউনিট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি বলেন, ত্রুটি মেরামতের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হারবিন কোম্পানির প্রকৌশলীরা মেরামতকাজে যুক্ত হয়েছেন। তবে ইউনিট দুটি কবে নাগাদ আবার উৎপাদনে ফিরবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিট থেকে প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। ইউনিটটি চালু রাখতে প্রতিদিন ৮০০ থেকে ৯০০ মেট্রিক টন কয়লার প্রয়োজন হয়।
অন্যদিকে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিট থেকে প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডে প্রায় ১৬০ থেকে ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। এ ইউনিট সচল রাখতে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন কয়লা প্রয়োজন হয়।
তবে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায়ই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ইউনিট দুটির উৎপাদন ব্যাহত হয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। সংস্কারের জন্য কয়েক বছর ধরে ইউনিটটির ওভারহোলিং কাজ চলছে। কর্তৃপক্ষের আশা, চলতি অক্টোবর মাসের যেকোনো সময় দ্বিতীয় ইউনিটটি আবার চালু করা সম্ভব হতে পারে।
দ্বিতীয় ইউনিট চালু হলে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষমতা কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হলেও বর্তমানে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রথম ও তৃতীয় ইউনিট বন্ধ থাকায় পুরো বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।