বরাবর
মাননীয় পুলিশ সুপার
নারায়ণগঞ্জ জেলা।
বিষয়: মামলা না নেওয়া ও হয়রানির বিষয়ে ওসি ও এসআই-এর বিরুদ্ধে তদন্তের প্রসঙ্গে।
জনাব,
আপনার অনেক অনেক মঙ্গল ও সাফল্য কামনা পূর্বক এই মর্মে জানাচ্ছি যে, আমি মোঃ সোহান (২৯), পিতা: লিটন শিকদার (৫৫), সাং: সুখেরটেক, ইউপি: কাচপুর, ওয়ার্ড নং: ০৮, থানা: সোনারগাঁও, জেলা: নারায়ণগঞ্জ।
বিগত তিন বছর পূর্বে আমার ছোট বোন সুরমির বিয়ে হয় শাহাদাত ভূঁইয়া, পিতা: জামান ভূঁইয়া, সাং: মৈকুলী, পাইমারি স্কুলের পাশে, তারাব পৌরসভা, থানা: রূপগঞ্জ, জেলা: নারায়ণগঞ্জ-এর সাথে। বিয়ের সময় আমার ছোট বোনের সুখ-শান্তির কথা চিন্তা করে আমার পরিবার আমার বোনকে ০৩ ভরি স্বর্ণালংকার (বর্তমান মূল্যে প্রায় ৭ লক্ষ টাকা) ও ৫ লক্ষ টাকার বিভিন্ন ফার্নিচার প্রদান করে।
কিন্তু বিয়ের পর থেকেই আমার ছোট বোন সুরমিকে শাহাদাত ভূঁইয়া ও তার পরিবার নানাভাবে নির্যাতন করতে থাকে। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি যৌতুকের দাবিও করা হয়। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে আমার বোন সুরমিকে মারধর করে আমাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
তবে বোনের সংসারের কথা ভেবে গত ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে আমিসহ আমার পরিবারের লোকজন আমার বোন সুরমিকে নিয়ে তার শ্বশুরবাড়ি শাহাদাত ভূঁইয়ার বাসায় যাই। সেখানে পৌঁছানোর পর আমাদের সকলের সামনেই আমার বোনকে মারধর করা হয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এ সময় শাহাদাত ভূঁইয়া ও তার পরিবারের লোকজন আমাদের কাছে ২ লক্ষ টাকা দাবি করে। আমরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা আমাদের ওপর চড়াও হয়।
এই ঘটনায় আমার বড় বোন কেয়া ও তার স্বামী ইয়াসিন গুরুতর আহত হন। আহত অবস্থায় তাদেরকে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়।
উক্ত ঘটনায় গত ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে রূপগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরদিন ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ জানায়—এ ধরনের মামলা এখানে হয় না। এরপর আমরা ফিরে আসি।
পরবর্তীতে ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জের সাথে মামলা দায়েরের বিষয়ে কথা বললে তিনি বলেন, “তোমার বোনকে নিয়ে এসে কী বিষয়ে মামলা করবে, তা লিখে দিয়ে যাও।” এরপর আমি আমার বোন সুরমিকে নিয়ে থানায় গেলে রূপগঞ্জ থানার এসআই আহসান হাবিব আমাদের সাথে অশালীন আচরণ করেন এবং কোনো মামলা গ্রহণ না করেই আমাদের থানা থেকে বের করে দেন।
পরবর্তীতে অফিসার ইনচার্জকে বিষয়টি জানানোর জন্য তার সাথে দেখা করতে চাইলে তা সম্ভব হয়নি এবং একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।