মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
বরিশালে বৈষম্যবিরোধী মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জেবুন্নেসা আফরোজ-এর জামিন মঞ্জুর হয়েছে। তার জামিনের পর নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী-এর জামিন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে—জেবুন্নেসার জামিন হলো, আইভীর জামিন কবে?
নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার সর্বশেষ নির্বাচনে মেয়র (চেয়ারম্যান) পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বিজয়ী হন। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রথম এবং টানা তিনবারের নির্বাচিত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০২৫ সালের ৯ মে নগরীর দেওভোগ এলাকার চুনকা কুটিরের বাড়ি থেকে সদ্য সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আইভীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। জেলা পুলিশ তাকে একটি হত্যাসহ পাঁচটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠান।
দুই দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ২৭ মে আবারও আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ঢাকার হাইকোর্টে বিচারপতি এ এস এম আব্দুল মমিন এবং বিচারপতি সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ৯ নভেম্বর মিনারুল হত্যা মামলাসহ পাঁচটি মামলায় আইভীর জামিন মঞ্জুর করেন। তবে এরপরও তার মুক্তি মেলেনি।
পুলিশ ১৮ নভেম্বর জেলার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সেলিনা খাতুন এবং অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাইমুনা আক্তার মনির আদালতে তাকে আরও পাঁচটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করলে তা মঞ্জুর হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তার বিরুদ্ধে মোট ১২টি মামলা দেখানো হয়েছে। এসব মামলার আইনি জটিলতার কারণেই তার মুক্তি বিলম্বিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ১৭ মে ঢাকার বাসা থেকে বরিশাল আসনের সংসদ সদস্য জেবুন্নেসা আফরোজকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। আদালত থেকে তাকে ছয়টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ১৮ ফেব্রুয়ারি তার জামিন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে বরিশাল মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন এবং মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জসিমউদ্দীনেরও জামিনাদেশ দেওয়া হয়।
জেবুন্নেসা আফরোজের জামিনের খবর প্রকাশের পর নারায়ণগঞ্জ মহানগরীতে সাবেক চারবারের মেয়র আইভীর জামিন প্রসঙ্গে আলোচনা-পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। নগরীর অনেকে মনে করছেন, আইভী আওয়ামী লীগের পদধারী হলেও দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে থেকে রাজনীতি করেছেন। নিজ দলের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান-সহ বিভিন্ন ইস্যুতে অবস্থান নেওয়ায় তিনি আলোচিত ছিলেন।
কেউ কেউ বলছেন, আইভীর নেতৃত্বে নগরীতে যে উন্নয়ন হয়েছে, তা অন্য প্রার্থীরা মেয়র হলে প্রত্যাশিত মাত্রায় হতো কি না—সে প্রশ্ন রয়েছে। তাই জেবুন্নেসা আফরোজ জামিন পেলে আইভীর ক্ষেত্রেও সমান আইনি সুযোগ দেওয়া উচিত বলে মত প্রকাশ করছেন অনেকে।
তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি মামলা ও জামিন আবেদন পৃথকভাবে বিচারাধীন বিষয়। আদালতের সিদ্ধান্তই এ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত। এখন দেখার বিষয়, চলমান আইনি প্রক্রিয়ায় সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন কবে এবং কীভাবে নিষ্পত্তি হয়।