স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার আলোচিত সিএনজি অটোরিকশা চালক সফিকুল ইসলাম হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা এখনো গ্রেফতার না হওয়ায় চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা।
গত ৩০ এপ্রিল দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে বরুড়া উপজেলার খোশবাস দক্ষিণ ইউনিয়নের বড়হরিপুর গ্রামে নিজ বাড়ির উঠানে প্রতিবেশী আনোয়ার হোসেন ও তার দুই ছেলে মো. রিয়ান হোসেন এবং কামরুল হাসান হৃদয়সহ মো. খোকন মিয়া ও স্বপন মিয়া মিলে সিএনজি চালক সফিকুল ইসলামের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। হামলায় মারাত্মক জখম হয়ে জ্ঞান হারান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় প্রথমে তাকে বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ২ মে কুমিল্লার নাভানা হাসপাতালে নিয়ে গেলেও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে সেখানে কোনো চিকিৎসক না পেয়ে ৩ মে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন থাকায় শেষ পর্যন্ত কুমিল্লার গোমতী হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়, এবং সেখানেই মৃত্যুর কাছে হার মানেন সফিকুল ইসলাম।
ছেলের মৃত্যুর পরপরই গত ৩ মে নিহতের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম বরুড়া থানায় হামলাকারীদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের প্রায় দেড় মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় গভীর উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন নিহতের স্ত্রী-সন্তানরা। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, আসামিরা প্রায়ই দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে এসে মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি-ধামকি দিয়ে এলাকায় ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার সময় নিহতের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম এসব তথ্য জানিয়ে দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানান।
এ বিষয়ে বরুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেন।
চাইলে আমি এই প্রতিবেদনের জন্য আরও সংক্ষিপ্ত একটি ভার্সনও তৈরি করে দিতে পারি, বা ওসির বক্তব্যের নির্দিষ্ট অংশ যুক্ত করতে চাইলে সেটিও জানাতে পারেন।