মোঃ আনজার শাহ:
(ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)
সততা, সাহস আর আপোষহীন সাংবাদিকতার এক উজ্জ্বল অধ্যায় আজ থেমে গেল। কুমিল্লার বরুড়া প্রেসক্লাবের সদস্য ও প্রবীণ সাংবাদিক মোঃ তাজুল ইসলাম (৫৫) আর নেই। ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে বরুড়াসহ দেশজুড়ে সাংবাদিক মহলে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
আজ (০৫ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে তার বড় ছেলে বাবার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেন। পারিবারিক সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। সকল চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই নির্ভীক সংবাদকর্মী।
বরুড়া উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের সরাফতি গ্রামে জন্ম নেওয়া মোঃ তাজুল ইসলাম ছিলেন সাংবাদিকতার মাঠে এক পরিচিত ও বিশ্বাসযোগ্য নাম। দৈনিক যুগান্তর, ভোরের ডাক, রূপসী বাংলা, বাংলার আলোড়ন, নিরীক্ষণ, দৈনিক শ্রমিক, দৈনিক মুক্তির লড়াই ও দৈনিক ভোরের কাগজসহ একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদপত্রে উপজেলা ও জেলা প্রতিনিধি হিসেবে তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ তিনি জাতীয় সাপ্তাহিক পল্লী সমাচার-এর মফস্বল সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং তথ্য অধিকার ও মানবাধিকার বিষয়ে তার লেখালেখি ও ভূমিকা পাঠকমহলে আলাদা সম্মান কুড়িয়েছে।
সাংবাদিকতা ছিল তার কাছে কেবল পেশা নয়, ছিল দায়িত্ব ও সংগ্রাম। জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী এই সাংবাদিক আপোষহীনভাবে কাজ করে গেছেন। অন্যায়, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার কলম ছিল দৃঢ় ও নির্ভীক। প্রতিবাদী গুণাবলির কারণে নানা প্রতিকূলতার মুখেও তিনি কখনো নীতির প্রশ্নে পিছু হটেননি। এ কারণেই তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন।
মোঃ তাজুল ইসলাম আজীবন এশিয়া ছিন্নমূল মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মানবকল্যাণ ও সমাজের প্রান্তিক মানুষের পক্ষে কথা বলাই ছিল তার জীবনের অন্যতম লক্ষ্য। সাংবাদিকতার পাশাপাশি মানবাধিকার আন্দোলনে তার অবদান স্থানীয় পর্যায়ে বিশেষভাবে প্রশংসিত।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন পুত্র, এক কন্যা ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার অকাল প্রয়াণে পরিবার যেমন অভিভাবকহীন, তেমনি বরুড়ার সাংবাদিক অঙ্গন হারাল এক অভিজ্ঞ পথপ্রদর্শককে।
তার ইন্তেকালে বরুড়া প্রেসক্লাব, বরুড়া থানা প্রেসক্লাব, বরুড়া উপজেলা প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন স্থানীয় প্রেসক্লাব, সাংবাদিক সংগঠন ও সামাজিক সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল বাদ জোহর নিজ বাড়িতে জানাজা শেষে মরহুমকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
নির্ভীক এই সাংবাদিকের মৃত্যুতে যে শূন্যতা তৈরি হলো, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। সত্যের পক্ষে দাঁড়িয়ে থাকা এক সাহসী কলম থেমে গেল, কিন্তু তার কর্ম ও আদর্শ সাংবাদিক সমাজে দীর্ঘদিন আলো জ্বালিয়ে রাখবে।