কামরুল হাসান:
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ বাঁশখালী থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের তৎপরতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা ও সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ গ্রহণ, অপরাধ দমন এবং বিভিন্ন অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনায় বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউলের ভূমিকার কথা বলছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সেবা প্রত্যাশীদের একাংশ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি), মামলা কিংবা বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে আসা মানুষের কথা গুরুত্ব দিয়ে শোনা এবং অভিযোগের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ সদস্যদের তৎপরতা বেড়েছে। ওসি রবিউলের নেতৃত্বে থানার কার্যক্রমে সাধারণ মানুষের অভিযোগকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেছেন কয়েকজন সেবা প্রত্যাশী। তাঁদের মতে, কোনো ঘটনা বা অভিযোগ নিয়ে থানায় আসার পর বিষয়টি শুনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থাও বাড়ছে।
বাঁশখালী থানার আওতাধীন এলাকায় জনসংখ্যার ঘনত্ব, বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড এবং নানা অপরাধের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ পুলিশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এর মধ্যেও অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া এবং ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
স্থানীয় কয়েকজন সেবা প্রত্যাশীর মতে, থানায় এসে অভিযোগ জানানোর ক্ষেত্রে আগের তুলনায় তাঁরা স্বস্তি বোধ করছেন। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের অভিযোগ শুনে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার কারণে পুলিশের প্রতি ইতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি। তবে পুলিশের সেবার মান ও এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সামগ্রিক মূল্যায়নে পরিসংখ্যান, মামলা ও অভিযানের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান
বাঁশখালী থানা এলাকায় মাদক, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির মতো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় না দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা।
স্থানীয় সচেতন মহলের কয়েকজনের দাবি, অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান এবং দৃশ্যমান পুলিশি তৎপরতা এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে মাদক ও কিশোর গ্যাংসংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক পুলিশি তৎপরতাকে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন।
স্থানীয়দের মতে, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধে শুধু অভিযান পরিচালনাই নয়, পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সচেতন মানুষের সহযোগিতাও প্রয়োজন। পুলিশের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন তাঁরা।
অভিযোগ শুনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
থানায় বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে আসা মানুষের বক্তব্য গুরুত্ব দিয়ে শোনা এবং অভিযোগের ধরন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। স্থানীয়দের একাংশের মতে, পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে যোগাযোগ যত বাড়বে, অপরাধের তথ্য তত দ্রুত পুলিশের কাছে পৌঁছাবে। এতে অপরাধ সংঘটনের আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
সেবা প্রত্যাশীদের কয়েকজন বলেন, কোনো অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলে সেটি গুরুত্বের সঙ্গে শোনা এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পাওয়ায় তাঁরা স্বস্তি বোধ করছেন। তবে পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে সেটিও নিরপেক্ষভাবে তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন বলে তাঁরা মনে করেন।
অপপ্রচারের অভিযোগ নিয়েও আলোচনা
অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর পুলিশি তৎপরতার কারণে ওসি রবিউলকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য নির্দিষ্ট তথ্য, নথি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্রগুলোর মতে, কোনো কর্মকর্তা বা পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করে তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। একইভাবে পুলিশের কর্মকাণ্ডের ইতিবাচক দিকও তথ্য-উপাত্ত ও বাস্তব কার্যক্রমের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
মানবিক পুলিশিংয়ে গুরুত্ব
আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের আচরণ এবং নাগরিকদের অভিযোগ শোনার বিষয়টিও একটি থানার সামগ্রিক সেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাঁশখালী থানায় মানুষের অভিযোগ শোনা, প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়া এবং অপরাধ দমনে সক্রিয় থাকার মাধ্যমে জনবান্ধব পুলিশিং আরও জোরদার করার চেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অপরাধ দমনের পাশাপাশি নাগরিক সেবা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। একই সঙ্গে পুলিশের কাছে আসা যেকোনো অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাঁশখালী থানার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির টেকসই উন্নয়নে পুলিশ ও স্থানীয় জনগণের পারস্পরিক সহযোগিতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ মানুষ অপরাধের তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করলে এবং পুলিশ সেই তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিলে এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হবে।
সাধারণ মানুষের অভিযোগে দ্রুত সাড়া, মাদক, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অভিযান এবং জনসাধারণের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধির কারণে বাঁশখালী থানার ওসি রবিউলের তৎপরতা স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনায় এসেছে। পুলিশের এই কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা আরও বাড়বে বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।