শামীম হোসেন সিকদার:
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের ২০২৬–২৭ অর্থবছরের হাট-বাজার ইজারা প্রক্রিয়াকে ঘিরে ব্যাপক অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি বিধি ও দরপত্রের শর্ত উপেক্ষা করে বেসরকারি ব্যাংকের পে-অর্ডার ব্যবহারকারী একটি চক্রকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন অংশগ্রহণকারী একাধিক ঠিকাদার।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সোনালী ব্যাংকের পে-অর্ডার বাধ্যতামূলক থাকা সত্ত্বেও কিছু দরদাতা বেসরকারি ব্যাংকের পে-অর্ডার জমা দিয়ে দরপত্রে অংশ নেন। এরপরও প্রশাসনের একটি অংশ সেই কাগজপত্র বৈধ দেখিয়ে তাদের সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছে—যা পুরো প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
সরকারি শর্ত উপেক্ষার অভিযোগ
গত ২০ এপ্রিল প্রকাশিত দরপত্র বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল, জামানত হিসেবে শুধুমাত্র সোনালী ব্যাংকের পে-অর্ডার গ্রহণযোগ্য হবে। সেই শর্ত মেনে দরপত্রে অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হন চনুমং মার্মা এবং মাও সেতুং তংচংগ্যা।
তারা উভয়েই সোনালী ব্যাংক থেকে পে-অর্ডার জমা দিয়ে নিয়ম অনুযায়ী অংশগ্রহণ করেন বলে দাবি করেন।
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, একই প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া একটি প্রভাবশালী চক্র বেসরকারি ব্যাংকের পে-অর্ডার ব্যবহার করলেও তা গ্রহণযোগ্য হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে প্রকৃত সর্বোচ্চ দরদাতাদের বঞ্চিত করে “পছন্দের সিন্ডিকেটকে” কাজ পাইয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
দরদাতাদের অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া
সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত চনুমং মার্মা এবং মাও সেতুং তংচংগ্যা এ বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
তারা বলেন,
“আমরা সরকারি বিজ্ঞপ্তির প্রতিটি শর্ত মেনে সোনালী ব্যাংক থেকে পে-অর্ডার দাখিল করেছি এবং বৈধভাবে সর্বোচ্চ দরদাতা হয়েছি। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে একটি জালিয়াতি চক্র বেসরকারি ব্যাংকের পে-অর্ডার দিয়েও কিছু কর্মকর্তার সহযোগিতায় পুরো প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। এটি সম্পূর্ণ অবৈধ ও নীতিবহির্ভূত।”
তারা আরও জানান, ইতোমধ্যে বাজার ফান্ড প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে তারা দাবি করেছেন, শর্ত ভঙ্গ করে কোনো দরদাতাকে গ্রহণ করা হলে পুরো টেন্ডার প্রক্রিয়া বাতিল করতে হবে।
আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি
ভুক্তভোগী দরদাতারা সতর্ক করে বলেছেন, যদি প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা না নেয় এবং নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে তারা উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হবেন।
তাদের মতে, দরপত্রের শর্ত পরিবর্তন বা উপেক্ষা করা হলে পুরো ইজারা প্রক্রিয়া আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হবে এবং প্রশাসন বড় ধরনের জটিলতার মুখে পড়বে।
প্রশাসনিক অনিয়ম ও সিন্ডিকেট অভিযোগ
স্থানীয় ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের অভিযোগ, পুরো প্রক্রিয়ার পেছনে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, যারা বড় অঙ্কের আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে বেসরকারি ব্যাংকের পে-অর্ডারকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
তাদের দাবি, এতে সরকারি ক্রয়নীতি ও দরপত্র বিধিমালা সরাসরি লঙ্ঘিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে সাধারণ ঠিকাদারদের আস্থার সংকট তৈরি করবে।
পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর
এ ঘটনায় বাজার ফান্ড প্রশাসক কী সিদ্ধান্ত নেন, সে দিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে যদি দ্রুত ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে বিষয়টি উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে বান্দরবান জেলা পরিষদের এই হাট-বাজার ইজারা প্রক্রিয়া এখন তীব্র বিতর্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।