বান্দরবানে উৎসবের নামে ‘মিথ্যাচার’: নতুন কমিটির বিরুদ্ধে চলমান উদযাপন পরিষদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

মোঃ শামীম হোসেন সিকদার:

বান্দরবানের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাইং উৎসব সামনে রেখে কমিটির বৈধতা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা এখন তুঙ্গে। তথাকথিত নতুন কমিটির পক্ষ থেকে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্যের প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে বর্তমান ‘উৎসব উদযাপন পরিষদ, বান্দরবান জেলা’। আজ এক জরুরি বিবৃতিতে বর্তমান পরিষদের নেতারা এই অপতৎপরতাকে ‘মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

নতুন কমিটির মিথ্যাচারের প্রতিবাদ
বিবৃতিতে জানানো হয়, একটি স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের ‘নতুন কমিটি’ দাবি করে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। গত ৫ ও ৬ এপ্রিল প্রশাসনের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কোনো সুরাহা না হলেও, উক্ত মহলটি দাবি করছে যে বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাদের সমর্থন দিয়েছেন।
এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন উল্লেখ করে চলমান উদযাপন পরিষদের সভাপতি চ নুমং বলেন,
“নতুন কমিটির পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে যে আবেদন করা হয়েছে, তাতে আমাদের নাম জড়িয়ে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণ বানোয়াট। আমরা এই ধরনের অসৎ ও দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। উৎসবের ঐতিহ্যকে পুঁজি করে এমন জালিয়াতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রিজিয়ন কমান্ডার মহোদয়ের উপস্থিতিতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সামনে অনুষ্ঠিত সভায় কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ইংরেজি পরিভাষায় যা একটি ‘Stalemate’ বা অমীমাংসিত অবস্থা। অথচ এই সত্যকে গোপন করে তথাকথিত অবৈধ কমিটি নিজেদের বৈধ প্রমাণের যে চেষ্টা করছে, তা আইনত দণ্ডনীয় ও নিন্দনীয়।

চলমান উৎসব উদযাপন পরিষদ স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে যে, তথাকথিত ওই কমিটির কোনো সিদ্ধান্তের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। পাহাড়ের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করতেই একটি মহল এমন উস্কানিমূলক পথে হাঁটছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনসহ সকল মহলকে অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়েছে, এই ধরনের ভুয়া তথ্য ও প্রতারণামূলক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে যেন যথাযথ তদন্তপূর্বক দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অন্যথায় উৎসবের মূল চেতনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে, সাংগ্রাইংয়ের মতো একটি পবিত্র উৎসবের আগে কমিটির এমন দ্বন্দ্বে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, যেখানে উৎসবের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা, সেখানে বিভক্তি ও কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি পাহাড়ের সংস্কৃতির জন্য অশুভ সংকেত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *