মোঃ রাসেল, স্টাফ রিপোর্টার:
বান্দরবানের লামা থানাধীন ফাইতং এলাকায় ঘটে যাওয়া একটি চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত দস্যুতা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় সংঘবদ্ধ দস্যুচক্রের মূলহোতাসহ তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত সিএনজি অটোরিকশা ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ মে ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ সন্ধ্যায় সংঘবদ্ধ দস্যুচক্রের সদস্যরা যাত্রীবেশে সিএনজি চালক নুরু আলমকে ভাড়া করে লামা-ফাইতং সড়কের বদরটিলা এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে চালকের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে মারধর ও ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করা হয়। পরবর্তীতে তার ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশা, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় চক্রটি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী চালক বাদী হয়ে লামা থানায় একটি দস্যুতা মামলা দায়ের করেন।
মামলা রুজুর পর বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ওহাবুল ইসলাম খন্দকারের দিকনির্দেশনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে তদন্ত শুরু হয়। সহকারী পুলিশ সুপার (লামা সার্কেল) মাসুম সরদারের তত্ত্বাবধানে এবং লামা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ কাইছার হামিদের নেতৃত্বে গঠিত টিম তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সত্যজিৎ বড়ুয়া বরগুনা, চট্টগ্রাম মহানগর ও কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে এবং তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাইকৃত মালামাল উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে দুইজন আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বান্দরবান জেলা পুলিশ অপরাধ দমন ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় এ ধরনের তৎপরতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে।