বাবার ভ্যান পড়ে ছিল, বাবাকে আর খুঁজে পাইনি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সাভারের আশুলিয়ায় পিকআপ ভ্যান থেকে গ্যাস সিলিন্ডার নামানোর সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন সাতজন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে জামগড়া এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সবজি বিক্রেতা নজরুল ইসলাম। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে নজরুল ইসলামের মরদেহের অপেক্ষায় ছিলেন তার পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা। প্রিয়জনকে হারানোর শোকে তাদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে মর্গের আশপাশের পরিবেশ।

নিহত নজরুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার আবুডাঙ্গা গ্রামে। গত আট বছর ধরে তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আশুলিয়ায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। স্থানীয় প্রিটি গ্রুপের কারখানার সামনে ভ্যান নিয়ে সবজি বিক্রি করতেন তিনি।

বিস্ফোরণের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় তার ছেলে সামিউল ইসলাম। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া সামিউল সেখানে গিয়ে শুধু বাবার ভ্যানটি পড়ে থাকতে দেখে। কিন্তু বাবাকে কোথাও খুঁজে পায়নি সে।

সামিউল জানায়, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে বাবার ভ্যানটি পড়ে থাকতে দেখেছি। কিন্তু বাবাকে আর খুঁজে পাইনি। পরে জানতে পারি, বাবাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে।’

জানা গেছে, রোববার রাতে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যান থেকে গ্যাস সিলিন্ডার নামানো হচ্ছিল। এ সময় হঠাৎ একটি সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই পাঁচজন দগ্ধ হয়ে মারা যান। গুরুতর আহত আরও দুজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদেরও মৃত্যু হয়। এতে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় সাতজনে।

নজরুল ইসলামের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। সোমবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে তার ভাই ও বোনকে বিমর্ষ অবস্থায় দেখা যায়।

নজরুল ইসলামের বড় বোন রওশনারা বেগম ভাইকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্বজনকে হারানোর শোকের পাশাপাশি ভাইয়ের রেখে যাওয়া স্ত্রী ও সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

অন্যদিকে নজরুল ইসলামের স্ত্রী ও ছেলে সামিউল ইসলামকে মর্গের সামনে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে কান্না করতে দেখা যায়। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

মর্গের সামনে স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। প্রিয়জনের মরদেহের অপেক্ষায় থাকা পরিবারের সদস্যরা দ্রুত মরদেহ হস্তান্তরের অপেক্ষায় ছিলেন। একই সঙ্গে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটন ও ঘটনার যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *