আলম রাসেল চৌধুরী:
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বারইয়ারহাটে বিএনপি’র দুই গ্রুপের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। বুধবার রাতে উপরোপুরী কোঁপ এলাকায় প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে অবশেষে প্রাণ হারিয়েছেন গাজী তাহমিদ খান (২৫)। নিহত তাহমিদ ছিলেন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ মিরসরাই উপজেলা শাখার যুগ্ম সদস্য–সচিব এবং বয়সভিত্তিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে পরিচালিত ছাত্র আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী। তরুণ সমাজে গ্রহণযোগ্যতার কারণে স্থানীয়ভাবে তার একটি আলাদা পরিচিতি ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি’র দুটি উপগ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সাম্প্রতিক সময়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে কথাকাটাকাটির ঘটনাই সংঘর্ষের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। বুধবার রাতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া–পাল্টাধাওয়া এবং ধারালো অস্ত্রের ব্যবহার শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষের কয়েকজন কর্মী তাহমিদকে লক্ষ্য করে অতর্কিতে হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর জখম হন।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত বারইয়ারহাট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। চমেক হাসপাতালে নেওয়ার পর রাত ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
তাহমিদের মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার পরিবার দাবি করছে, পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তাকে টার্গেট করেছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দ্রুত গ্রেফতার দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, ঘটনার পরপরই বারইয়ারহাট এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ঠেকাতে পুলিশ, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, রাজনৈতিক সহিংসতার এই ধারাবাহিকতা থামাতে প্রশাসনের আরও কঠোর ভূমিকা প্রয়োজন।
তবে এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি বলে জানা গেছে। পুলিশের দাবি, নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দির ভিত্তিতে মামলা প্রক্রিয়াধীন।
তরুণ ছাত্রনেতা গাজী তাহমিদের মৃত্যুতে এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিভিন্ন সামাজিক ও ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করা হয়েছে।