এ আর সুমন:
ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে বর্তমানে আন্তর্জাতিক মানের যাত্রীদের যাতায়াত করতে দেখা যাচ্ছে। ঢাকার বাইরে থেকে আসা যাত্রীদের টিকিট চেকের নামে টিসি ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ট্রেনের যাত্রীদের টিকিট চেক করতে দেখা যায়। টিকিট থাকলে সেই টিকিট সংগ্রহ করে ট্রেনের এটেনডেন্টদের কাছে বিক্রি করে দিতে দেখা যায়। আর টিকিট না থাকলে তাদেরকে টিসি সদস্যদের সঙ্গে মিলে সুরাহা করে এটেনডেন্টরা টিকিট কিনে নিয়ে তাদের চুক্তিতে আনা যাত্রীদের দিয়ে দেয়, যাতে করে কমলাপুর স্টেশনে দেখিয়ে নির্বিঘ্নে বের হয়ে যেতে পারে।
এদিকে সরকার হারাচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব। যদিও নিরাপত্তা বাহিনীর টিকিট চেক করার কোনো এখতিয়ার নেই। আগে টিসি স্টাফের স্বল্পতার কারণে টিকিট চেক করতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের দেখা যেত। কিন্তু বর্তমানে পর্যাপ্ত টিসি স্টাফ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবুও এই টিসি সদস্যদেরকেও নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে দেখা যাচ্ছে।
টিসিরা যাত্রীদের কাছে অনলাইন টিকিট পেলে সেই টিকিট কে কিনেছে তার ভোটার আইডির ফটোকপি আছে কি না তা জানতে চায়। না থাকলে তাকে ফোন করতে বলে, নইলে জরিমানা দিতে হবে বলে চাপ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে বিদেশগামী যাত্রীদের কাছ থেকেই বেশি জরিমানা আদায় করা হয়। আবার টিকিট থাকলেও বাচ্চাদের টিকিট লাগবে বলে টাকা আদায়ের নিয়মিত অভিযোগ রয়েছে। যাত্রী বুঝে জরিমানা সহ এক হাজার থেকে পনেরোশ টাকা বিকাশে নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া চুক্তিতে কিছু যাত্রী রয়েছে, যাদের শুধু গেট পার করে দেওয়ার জন্য টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে এই টিসি সদস্যদের বিরুদ্ধে। কিছু যাত্রীদের টিকিট না বানিয়েই শুধু টাকা আদায় করে ছেড়ে দেওয়া হয়। এভাবে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ও টিসি সদস্যরা প্রতিদিন সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব নষ্ট করে নিজেদের পকেট ভারী করছে।
এ বিষয়ে দেখার যেন কেউ নেই। এ বিষয়ে বিমানবন্দর রেলওয়ের হেড টিসি মো. মনিরের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, “আমরা টিকিট রিসেলিং করি না, এটি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা করে থাকে।”
আমি জানতে চাইলে, টিকিট চেক করে আবার প্রকাশ্যে এটেনডেন্টদের কাছে বিক্রি করার বিষয়ে কেন তারা বাধা দিচ্ছেন না বা বন্ধ করার ব্যবস্থা নিচ্ছেন না—এটি তো তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য—এর জবাবে তিনি কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।
অনলাইন টিকিট সম্পর্কে মনির জানান, অনেক সময় ফেক বা ফটোকপি টিকিট পাওয়া যায়, সে ক্ষেত্রে জরিমানা করা হয়। তবে প্রশ্ন হলো, সবাই তো ফেক টিকিট ব্যবহার করেন না। সে ক্ষেত্রে নিরীহ যাত্রীদের হয়রানির অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে।
টিকিট না বানিয়ে শুধু টাকা রেখে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, ঐ টাকা কয়েকজনকে একত্রিত করে একটি টিকিট করা হয়।
সর্বোপরি, উল্লেখিত বিষয়ে ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বাংলাদেশ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।