সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চৌদ্দরশি গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
দাফনের আগে মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান স্বজন ও এলাকাবাসী।
এর আগে সোমবার রাত ১১টার দিকে কপোতাক্ষ নদ পেরিয়ে ট্রলারে করে মরিয়মের মরদেহ গাবুরার সরদার পাড়ায় পৌঁছায়। ঢাকায় ময়নাতদন্তসহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ সাতক্ষীরায় আনা হয়। পরে সড়ক ও নদীপথ পেরিয়ে তা পৌঁছায় মরিয়মের জন্মভূমিতে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মরিয়মের সঙ্গে তার বাবা মাসুম বিল্লাহ, মা, দাদি, নানি, ফুপা, ফুপি ও ছোট চাচা মোতাসিম বিল্লাহসহ স্বজনরা ছিলেন।
মরদেহ পৌঁছানোর পর গাবুরা পশ্চিমপাড়া সরদার বাড়ি জামে মসজিদের পাশে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা নুরুল হুদা জানাজায় ইমামতি করেন।
জানাজায় স্বজনদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা, ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা এবং শ্যামনগর থানার এসআই অনিরুদ্ধ রায় ও বদিউজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। জানাজায় ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা মরিয়মের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন এবং তার আত্মার মাগফিরাতের জন্য দোয়া করতে উপস্থিতদের আহ্বান জানান।
দাফনের আগে স্বজনরা মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান। তাদের ভাষ্য, তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
মরিয়মের বড় চাচি মুন্নী আক্তার বলেন, “মেয়েটি অনেক মেধাবী ছিল। জানি না এটা কেন ঘটেছে। মৃত্যুর রহস্য এখনো জানা যায়নি। ওর সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, তার সুষ্ঠু বিচার চাই। আমাদের মেয়ে খুবই নরম ও ভদ্র ছিল। আমরা সুষ্ঠু বিচার চাই।”
মরিয়মের স্বজন ইয়াহিয়া বলেন, “গতকাল রাত ৭টার দিকে জানতে পারি মরিয়ম নাকি আত্মহত্যা করেছে। তবে প্রকৃত ঘটনা তো আমরা জানি না। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”
মরিয়মের জন্মভূমি চৌদ্দরশি গ্রামে বর্তমানে পরিবারের কেউ স্থায়ীভাবে বসবাস করেন না। তবে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও উদ্বেগ দেখা যায়।
প্রসঙ্গত, গত রবিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় জাতীয় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলামের নামে বরাদ্দ করা ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটের একটি কক্ষ থেকে মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরে মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম ও ওবায়দুল্লাহকে আসামি করা হয়েছে।