মামলা থেকে অব্যাহতির নামে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ, যাত্রাবাড়ী থানার এএসআই তাহমিদার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

৫ আগস্টের পর দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধের ব্যাপারে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলে অভিযোগ উঠছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন থানায় মামলা থেকে অব্যাহতি, গ্রেপ্তার এড়ানো এবং তদন্তে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে ঘুষ বাণিজ্য আগের চেয়ে বেড়েছে—এমন অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় দায়িত্বরত এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা হলেন যাত্রাবাড়ী থানার এএসআই তাহমিদা। অভিযোগ রয়েছে, তিনি একাধিক মামলার আসামিদের আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা গ্রহণ করলেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মামলা থেকে অব্যাহতি দিচ্ছেন না এবং টাকা ফেরতও দিচ্ছেন না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ভুক্তভোগী জানান, “আমার আত্মীয় একটি মামলার আসামি। তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা বলে এএসআই তাহমিদাকে ৩৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু এখন তিনি না অব্যাহতি দিচ্ছেন, না টাকা ফেরত দিচ্ছেন।”

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, যাত্রাবাড়ী থানায় আগস্ট পরবর্তী সময়ে দায়ের হওয়া শত শত মামলার মধ্যে অনেক আসামি প্রকৃতপক্ষে নির্দোষ হলেও তাদের হয়রানি করা হচ্ছে। আবার বিপরীত চিত্রও দেখা যাচ্ছে—ছাত্র-জনতা হত্যাসহ গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত প্রভাবশালী আসামিরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, এসব ক্ষেত্রে তদন্ত কর্মকর্তারা মোটা অঙ্কের ঘুষ গ্রহণ করছেন বলেই অভিযুক্তরা ধরা পড়ছেন না।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, যাত্রাবাড়ী থানায় এমন বহু আসামি রয়েছেন যারা সরাসরি সহিংসতা বা হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, তবুও রাজনৈতিক পরিচয় ও আর্থিক লেনদেনের কারণে তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে যাত্রাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখব। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অন্যদিকে, অভিযুক্ত এএসআই তাহমিদা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি কোনো টাকা-পয়সা নেইনি। যারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আমি নোট নিয়েছি। এসব মিথ্যা অভিযোগের বিষয়ে আমি আদালতে মামলা করব।”

ভুক্তভোগীরা জানান, তারা বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানাবেন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করবেন। তাদের ভাষ্য, পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে যদি এমন অভিযোগের সঠিক তদন্ত না হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

সচেতন মহলের মতে, আগস্ট পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে জনআস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অভিযুক্তদের রাজনৈতিক পরিচয় বা আর্থিক লেনদেন নির্বিশেষে আইনের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *