পরিকল্পিত নগর গড়তে হলে আগে চাই সারা দেশের জন্য সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান, আর তার ভিত্তি হতে হবে নির্ভুল জনসংখ্যার তথ্য। ‘স্মার্ট সিটি কনক্লেভ ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন। ‘স্মার্ট আবাসন, টেকসই নগরায়ণ ও ভবিষ্যতের বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়।
আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অনুষ্ঠানে অত্যন্ত অর্থবহ ও তথ্যসমৃদ্ধ আলোচনা হয়েছে। আলোচকেরা, বিশেষ করে অধ্যাপক আদিল মোহাম্মদ খান যেসব প্রস্তাব দিয়েছেন, সরকারের চলমান অনেক কাজের সঙ্গে সেগুলোর মিল রয়েছে।
‘সারা বাংলাদেশকে মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় আনতে হবে’
মন্ত্রী জানান, সিটি করপোরেশন থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সারা দেশকে মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, মাস্টারপ্ল্যান ছাড়া কাজ করা অত্যন্ত কঠিন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।জনসংখ্যার হালনাগাদ তথ্যের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সর্বশেষ আদমশুমারি হয়েছে অনেক দিন আগে। তাই একটি যথাযথ আদমশুমারি হওয়া উচিত, যার ভিত্তিতে নগর পরিকল্পনা করা সম্ভব হবে।
ভবন নির্মাণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি অথরিটি (বিবিআরএ) নিয়ে কাজ চলছে। স্থাপত্য, কাঠামোসহ সব কারিগরি দিক বিবেচনায় নিয়ে নকশা অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অনুমোদনের পর ভবন সঠিকভাবে তৈরি হয়েছে কি না, তা যাচাই করে নির্মাণ-পরবর্তী সনদ দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে। ওই সনদের জন্য নকশাকারীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে।
ঢাকার পরিবেশ রক্ষার প্রসঙ্গে মন্ত্রী গুলশান লেক ও হাতিরঝিলের কথা উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করেন। তাঁর ভাষ্য, উচ্চবিত্ত আবাসিক এলাকাগুলোতেও খোলা জায়গা ও পরিবেশ রক্ষার যে শর্ত থাকার কথা ছিল, অনেক ক্ষেত্রে ডেভেলপাররা তা মানেননি। এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা আগেও হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, লেক ও পানির সমস্যার সমাধান না করা গেলে সারা দেশের নগর পরিবেশ ঝুঁকিতে পড়বে।
‘আইন করতে সরকার রাজি, আপনারা পরামর্শ দিন’
বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দেশের মঙ্গলের জন্য যেকোনো প্রয়োজনীয় আইন করতে প্রস্তুত। তিনি সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেকোনো পরামর্শ সরকার গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
গত সাত মাসে নেওয়া উদ্যোগের মধ্যে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, যেসব এলাকায় উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নেই, সেখানে সিটি করপোরেশন বা স্থানীয় প্রতিষ্ঠান থেকে ভবনের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। এতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়ে ভারসাম্য থাকছে না। এসব ব্যবস্থাকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। এ জন্য একটি প্রস্তাব তৈরি করা হচ্ছে, যা শিগগিরই মন্ত্রিসভায় উঠবে বলে জানান তিনি। অনুমোদিত হলে এ বিষয়ে কাজ আরও গতি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।