মুক্তিযোদ্ধার সম্মান আর ছাদের স্বপ্ন, এক মঞ্চে দুই মন্ত্রণালয়, ওসমানী মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলন

 

মোঃআনজার শাহ :

একদিকে স্বাধীনতার বীর সেনানীদের যথাযথ সম্মান ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে কোটি মানুষের মাথার ওপর নিরাপদ ছাদ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার  এই দুটি মহৎ লক্ষ্যকে সামনে রেখে আজ রাজধানীর  ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো ‘জেলা প্রশাসক সম্মেলন ২০২৬’-এর দ্বিতীয় অধিবেশন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অধিবেশন দেশের প্রশাসনিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্বে সজ্জিত অধিবেশন,

অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী আহমেদ আজম খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জনাব জাকারিয়া তাহের। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জনাব আহমেদ সোহেল মনজুর এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জনাব ইশরাক হোসেন।

দেশের সকল জেলার জেলা প্রশাসকগণ এই অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেন। কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায় ও মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনের এই বিরল সমাবেশ ছিল অধিবেশনটির সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক।

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে অটল অঙ্গীকার,

অধিবেশনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা, নিয়মিত ভাতা প্রদান এবং তাঁদের পরিবারের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতে মাঠ পর্যায়ে আরও কার্যকর ও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, “মুক্তিযোদ্ধারা এই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাঁদের যথাযথ সম্মান ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। জেলা প্রশাসকরা সরাসরি মাঠ পর্যায়ে থেকে এই পবিত্র দায়িত্ব পালনে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।”

 

আবাসন সংকট নিরসনে নতুন রোডম্যাপ,

অধিবেশনের অপর গুরুত্বপূর্ণ পর্বে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। দেশের ক্রমবর্ধমান আবাসন সংকট নিরসনে সুপরিকল্পিত নগরায়ণ, সাশ্রয়ী মূল্যে আবাসন নিশ্চিতকরণ এবং অবৈধ নির্মাণ রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।

গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেন, “দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনে জেলা প্রশাসকদের সমন্বিত ও কার্যকর ভূমিকা অপরিহার্য।” তিনি আরও বলেন, মাঠ পর্যায়ের সঠিক তথ্য ও তৎপর পদক্ষেপই পারে দেশের আবাসন খাতে প্রকৃত পরিবর্তন আনতে।

মাঠ প্রশাসন ও কেন্দ্রের সেতুবন্ধনে নতুন দিগন্ত,

অধিবেশনে উপস্থিত বিশেষজ্ঞ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একমত পোষণ করেন যে, মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনের সঙ্গে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এই কার্যকর সমন্বয় দেশের আবাসন সংকট নিরসন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে তা দীর্ঘমেয়াদী ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একটি সুশাসিত, আবাসনবান্ধব ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞ বাংলাদেশ গড়ার পথে এই অধিবেশন হয়ে উঠুক এক অনন্য প্রেরণার উৎস — এটাই এখন সচেতন মহলের প্রত্যাশা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *