মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে নকল নবীশকে মারধর ও চাঁদা দাবির গুরুতর অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

ঢাকার তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের অধীন মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে এক নকল নবীশকে মারধর ও অফিসে কাজ করতে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নকল নবীশ শ্রাবনী জাহান থানায় মামলা দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী শ্রাবনী জাহান দীর্ঘদিন ধরে মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে নকল নবীশ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে অফিসের ভেতরে তার বসার টেবিল সরিয়ে সাব-রেজিস্ট্রারের কক্ষে রেখে দেন একই অফিসে কর্মরত কয়েকজন ব্যক্তি। পরদিন ২৫ ফেব্রুয়ারি সাব-রেজিস্ট্রার বদলি হয়ে চলে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়।

অভিযোগে বলা হয়, ওই সময় গোলাম মোস্তফা, ইমরান হোসেন এবং মোঃ আওলাদ হোসেন নামে তিনজন ব্যক্তি—যাদের নকল নবীশ ও প্রভাবশালী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—শ্রাবনী জাহানকে অফিসে কাজ করতে হলে ২ লাখ টাকা দিতে হবে বলে চাপ প্রয়োগ করেন। বিষয়টি শুনে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং পরে স্বামী মোঃ শরীফুর রহমানকে নিয়ে বাসায় ফিরে যান।

এরপরও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ২৭ ফেব্রুয়ারি সকালে অভিযুক্ত ওই তিনজনের সঙ্গে আরও ৪–৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি অফিসে এসে শ্রাবনী জাহানের কর্মস্থলে হামলা চালায়। এ সময় তার টেবিলের ওপর থাকা সরকারি দলিল ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফেলা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তাকে থাপ্পড় মেরে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। ভয়ে এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিনি দীর্ঘদিন বিষয়টি সহ্য করলেও পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে থানায় মামলা করেন।

এদিকে অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে অফিসে প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম, চাঁদাবাজি ও অবৈধ অর্থ লেনদেনে জড়িত—এমন খবর বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে প্রকাশ হলেও প্রশাসনিক কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নিলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি, এমনকি অনশন কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবেন।

এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদির এবং জেলা রেজিস্ট্রারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *