যুবদল নেতা হত্যার তদন্তে নতুন মোড় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা গ্রেফতার

মাগুরা প্রতিনিধি:

মাগুরায় পৌর যুবদলের নেতা সাকের হোসেন হত্যা মামলায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক গোলাম জাহিদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে ঢাকার বিমানবন্দর থানা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছে মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র। এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

পুলিশের তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাকের হোসেন হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গোলাম জাহিদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যদের বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করছে তদন্তকারী দল। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

নিহত সাকের হোসেন মাগুরা পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি শহরের পারনান্দুয়ালী গ্রামের মৃত কুতুব উদ্দিনের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে মাগুরা বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টারে কাউন্টার মাস্টার হিসেবে কাজ করতেন তিনি।

গত ২১ অক্টোবর বুধবার ভোরে বাস টার্মিনালের ওই কাউন্টারের ভেতরে গুলিবিদ্ধ হন সাকের। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মোটরসাইকেলে করে দুই যুবক কাউন্টারে এসে তাঁকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর প্রথমে সাকের স্ট্রোক করে মারা গেছেন বলে প্রচার করা হয়। তাঁর মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার পর মাথা থেকে রক্ত বের হতে দেখে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে মরদেহ আবার হাসপাতালে নেওয়া হলে ময়নাতদন্তে মাথার ভেতর থেকে একটি গুলি উদ্ধার করা হয়। এতে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে সামনে আসে।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শারমিন নাহার মাগুরা সদর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে নেমে ঘটনার রাতেই সাকেরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ঢাকা মহানগর যুবদলের সদস্য রনি শিকদার ও তাঁর বান্ধবী শামীমা তাবাসসুম লুবনাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে পুলিশ।

পরবর্তী সময়ে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ ও রিমান্ডে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্বর্ণ ব্যবসায়ী অনিমেষ মজুমদার এবং পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও নবনির্বাচিত শ্রমিক নেতা মারুফ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মারুফকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মধ্যেই সর্বশেষ গ্রেফতার করা হলো জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক গোলাম জাহিদকে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সাকের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে স্বর্ণ ডাকাতির একটি ঘটনার যোগসূত্র থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত ৬ অক্টোবর দুপুর ১টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মাগুরার রামনগর এলাকায় গোল্ডেন লাইন পরিবহণের একটি যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ১২ থেকে ১৫ জনের একটি দল নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে বাসটি থামায়। পরে মজিবর রহমান নামে এক যাত্রীকে বাস থেকে নামিয়ে পাশের একটি অটো ইটভাটার কাছে বাগানের মধ্যে নিয়ে তাঁর কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়। এরপর তাঁকে শাবলগাছা এলাকার একটি মাঠে হাত-পা বেঁধে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মজিবর রহমান গত ২৮ অক্টোবর মাগুরা সদর থানায় মামলা করেন। মামলায় ডাকাতির শিকার স্বর্ণের পরিমাণ ১৫০ ভরি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রকৃত পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবহণ থেকে ডাকাতি করা স্বর্ণের ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরে সাকের হোসেন হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে স্বর্ণ ডাকাতির সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র এবং গোলাম জাহিদের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

সাকের হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাগুরা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামান গোলাম জাহিদের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তাঁকে ঢাকার বিমানবন্দর থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সাকের হত্যাকাণ্ড ও স্বর্ণ ডাকাতির ঘটনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে তদন্তসংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *