অনলাইন ডেস্ক:
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগের ঘোষিত ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সংগঠনটি ২০ সেপ্টেম্বর রোববার ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে ১৬ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের কথাও জানানো হয়েছিল।
এদিকে কর্মসূচির আগের দিন শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দেশের বিভিন্ন স্থানে যুবলীগের ঝটিকা মিছিলের খবর পাওয়া গেছে। কুমিল্লার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা, দাউদকান্দি ও মুরাদনগর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় ঝটিকা মিছিল থেকে তিন যুবলীগ কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
ঢাকার আশুলিয়াতেও শুক্রবার যুবলীগের একটি ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিলের খবর পাওয়া গেছে। মিছিল থেকে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। পরে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এ ছাড়া রাজধানীর গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার অভিযোগে করা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের চার নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠানোর খবরও এসেছে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, একটি মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়।
এমন পরিস্থিতিতে ২০ সেপ্টেম্বরের ঘোষিত লকডাউন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে কর্মসূচিকে ঘিরে ব্যাপক নাশকতা হবে—এমন কোনো বিষয়কে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করার মতো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
এর আগে যুবলীগের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ের প্রতিবাদে ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। সংগঠনটির চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিলের নির্দেশক্রমে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
লকডাউন কর্মসূচির আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ ও গ্রেপ্তারের ঘটনা সামনে আসায় আগামী দিনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের নজরদারি বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলো থেকে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। তবে কর্মসূচির দিন পরিস্থিতি কী রূপ নেয়, তা নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার ওপর।
এদিকে ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চও শুরু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকায় রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে।