রশিদ হত্যার ৩৪ বছর পরও ধরাছোঁয়ার বাইরে ‘পেয়ারু’—মাদক, অস্ত্র ও নির্বাচনী আতঙ্কে গুমান মর্দ্দন

এ এম এম আহসান:

চট্টগ্রামের হাটহাজারীর গুমান মর্দ্দন ইউনিয়নে এক চাঞ্চল্যকর বাস্তবতা সামনে এসেছে—

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার গুমান মর্দ্দন ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাস, মাদক ও সহিংসতার অভিযোগে আলোচিত ইব্রাহিম চৌধুরীর বাড়ি প্রকাশ খুইন্ন্যার বাড়ির বাদশা মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ আলী ওরফে পেয়ারু এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে। অথচ তিনি গুমান মর্দ্দনের সি ওয়ার্ডের তৎকালীন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুর রশীদ হত্যাকাণ্ডের প্রধান ও এক নম্বর আসামি বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন, মাদক ব্যবসা ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে পেয়ারু। এতে সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

হত্যাকাণ্ডের পর বিদেশে পলায়ন, সৌদিতে অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ

একটি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করলেও তাকে গ্রেপ্তারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই। গুমান মর্দ্দনের সি ওয়ার্ডের তৎকালীন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুর রশীদ হত্যামামলার প্রধান ও এক নম্বর আসামি মোহাম্মদ আলী ওরফে পেয়ারু আজও আইনের ধরাছোঁয়ার বাইরে। অথচ এলাকায় তার সন্ত্রাসী তৎপরতা, মাদক ব্যবসা ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ।

হত্যা করে বিদেশে পলায়ন, পরে আবার এলাকায় দাপট

স্থানীয় ও মামলার নথি অনুযায়ী, ১৯৯১ সালের আলোচিত আব্দুর রশীদ হত্যাকাণ্ডের পরপরই প্রধান আসামি পেয়ারু দেশ ছেড়ে সৌদি আরবে পালিয়ে যায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সৌদি প্রবাসী অভিযোগ করেন, সৌদিতে অবস্থানকালীন সময়ে পেয়ারু মাদক ব্যবসা, দালালি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশ থেকে ইয়াবা পাচার করে সৌদিতে গোপনে মাদক বাণিজ্য চালাত সে।

পরবর্তীতে দেশে ফিরে আবারও গুমান মর্দ্দন এলাকায় সক্রিয় হয়ে ওঠে পেয়ারু। স্থানীয়দের ভাষ্য, হত্যা মামলার প্রধান আসামি হওয়া সত্ত্বেও তার চলাফেরায় কোনো বাধা নেই—বরং আগের চেয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সে।

প্রকাশ্যে অস্ত্র, রাতের আঁধারে নির্যাতনের অভিযোগ

এলাকাবাসীর অভিযোগ, পেয়ারু ও তার সহযোগীরা প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করে এলাকায় ভীতি ছড়াচ্ছে। সম্প্রতি অস্ত্রসহ পেয়ারুর একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যারা এসবের প্রতিবাদ করতে চান, তাদের ওপর রাতের অন্ধকারে নেমে আসে নির্যাতন—এমন অভিযোগও উঠে এসেছে।

একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ভয়ের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না। পুরো এলাকাজুড়ে তৈরি হয়েছে নীরব আতঙ্কের পরিবেশ।

নির্বাচনী রাজনীতি ও আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগ

অভিযোগ রয়েছে, পেয়ারু নিজেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মীর হেলাল উদ্দিনের কর্মী পরিচয় দিয়ে এলাকায় দাপট দেখাচ্ছে। এতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ভীতি তৈরি হচ্ছে। অনেক ভোটার মনে করছেন, এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য মারাত্মক হুমকি।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কোনো হত্যা মামলার প্রধান আসামির প্রকাশ্য তৎপরতা নির্বাচনী পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে এবং একটি দলের ভাবমূর্তিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—৩৪ বছর পেরিয়ে গেলেও একটি আলোচিত হত্যামামলার প্রধান আসামি এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, আইনের শাসন কোথায়? কেন একজন পলাতক হত্যা মামলার আসামি প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে ঘুরে বেড়াবে?

এলাকাবাসীর দাবি: ভোটের আগেই গ্রেপ্তার

গুমান মর্দ্দনের সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলের জোর দাবি—আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অবিলম্বে পেয়ারুসহ সব সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে এলাকায় শান্তি, নিরাপত্তা ও নিরপেক্ষ ভোট পরিবেশ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *