মোঃআনজার শাহ
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকায় অননুমোদিত ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। আজ বুধবার (৬ মে) রাজউকের সাবজোন-৫/১-এর আওতাধীন বসিলা সিটি ডেভেলপার্স লিমিটেড এলাকায় পরিচালিত মোবাইল কোর্ট অভিযানে মোট ১২টি নির্মাণাধীন ভবনের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং ১০টি ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শান্তা রহমান ও অথরাইজড অফিসার সাঈদা ইসলামের যৌথ তত্ত্বাবধানে সহকারী অথরাইজড অফিসার, প্রধান ইমারত পরিদর্শক, ইমারত পরিদর্শক ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে যেসব ভবনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, রোড নং-১, ব্লক-এ-তে ভবন মালিক ইয়াকুব গংয়ের প্লট নং-০৫-এ রাজউক অনুমোদনহীন গ্রাউন্ড ফ্লোরের নির্মাণকাজ বন্ধ করা হয় এবং স্ল্যাবের কিছু অংশ ভেঙে অপসারণ করা হয়। একই রোডে ভবন মালিক রিয়াজ উদ্দিন গংয়ের চার তলা ভবন এবং নুরুল ইসলামের নয় তলা ভবনের নির্মাণকাজও বন্ধ করা হয়। উভয় ভবনের সম্মুখের ক্যান্টিলিভার অংশ আংশিক ভেঙে অপসারণ করা হয়।
রোড নং-২, ব্লক-এ-তে ডা. হারুনের ১১ তলা ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ করে ক্যান্টিলিভার অংশ আংশিক অপসারণ করা হয়। রোড নং-৩-এ ভবন মালিক পলাশ গংয়ের নয় তলা ভবনের সম্মুখ ও পশ্চাতের ক্যান্টিলিভার অংশ ভেঙে অপসারণ করা হয় এবং একই রোডে মুকুলের ভবনের নিচ তলার নির্মাণকাজ বন্ধ করা হয়।
রোড নং-২, ব্লক-এ-তে আব্দুল হকের ভবনের বেইজমেন্টের নির্মাণকাজ বন্ধ করা হয়। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, এই ভবন মালিক রাজউকের নির্মাণ অনুমোদন গ্রহণ ছাড়া ভবিষ্যতে কোনো নির্মাণকাজ করবেন না মর্মে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকার করেছেন। রোড নং-৫-এ খোরশেদ আলমের দুই তলা ভবন এবং রোড নং-৬, ব্লক-বি-তে আসাদের ফাউন্ডেশনের কাজও বন্ধ করা হয়েছে।
এ ছাড়া রোড নং-৭, ব্লক-বি-তে কর্ণফুলী গার্ডেনের স্বত্বাধিকারী আব্দুর রশিদের আট তলা ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ ও ক্যান্টিলিভার অংশ অপসারণ করা হয়। রোড নং-৮ ও ৯, ব্লক-বি-তে সিটি টাওয়ারের এক তলা ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ করে স্ল্যাব কাস্টিংয়ের সেন্টারিং ও সাটারিং অপসারণ করা হয়।
উল্লেখযোগ্য যে, একই এলাকায় অরবিটেক লিমিটেডের ১০ তলা নির্মাণাধীন ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ করা হলেও মহামান্য উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থা জারি থাকায় ভবনের কোনো অংশ অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। ভবন মালিককে উচ্চ আদালতের নির্দেশ যথাযথভাবে মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অভিযানে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি ভবন মালিককে রাজউকের নির্মাণ অনুমোদন গ্রহণ সাপেক্ষে পরবর্তীতে নির্মাণকাজ পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বৈদ্যুতিক মিটার ও সার্ভিস তার ডিপিডিসির প্রতিনিধি দলের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
রাজউকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অননুমোদিত ভবন নির্মাণ রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।