মোহাম্মদ সোহেল রানা:
ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বসবাসরত নুরউদ্দিনের মেয়ে নুপুর (২৬)। কয়েক বছর আগে পাশের এলাকার ছেলে সোহাগ চৌধুরী (৪২)-এর সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। নুপুরের সংসারে রয়েছে দুই সন্তান—সাত বছরের এক ছেলে ও দেড় বছরের এক মেয়ে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই তাদের সংসারে পারিবারিক অত্যাচার-নির্যাতন লেগেই থাকত। এ নিয়ে পারিবারিকভাবে কয়েকবার বৈঠক করে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। তবে নুপুর সব ধরনের অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করেও সংসার টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন।
কিন্তু ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস! একপর্যায়ে পারিবারিক অত্যাচার-নির্যাতনই নুপুরের মৃত্যুর কারণ হয়ে থাকতে পারে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত ২৮ আগস্ট দুপুরের পর ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের মানিকদি নম্বরের টেক এলাকার তামান্না বিল্ডিংয়ের সামনে একটি বাসা থেকে গৃহবধূ নুপুরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
তবে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের সময় প্রশাসনিকভাবে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নুপুরের বাবার অভিযোগ, ঘটনার পর তিনি স্থানীয় ক্যান্টনমেন্ট থানায় বারবার গেলেও কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এদিকে স্বামী ও ননদের অত্যাচারের অভিযোগের মধ্যে ২৬ বছর বয়সী নুপুরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তার শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন ছিল কি না, ময়নাতদন্ত বা মেডিকেল রিপোর্টে কী এসেছে—এসব বিষয় নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন।
নুপুরের মৃত্যু হত্যা নাকি অপমৃত্যু—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে ঘটনাটি নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক এবং নুপুরের মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।