স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানী ঢাকার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ সায়েদাবাদ এখন মাদক এবং জুয়ার স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন এখানে লক্ষ লক্ষ টাকার মাদক কেনাবেচা এবং কোটি টাকার জুয়ার আসর বসলেও রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছে স্থানীয় প্রশাসন। বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে মাদক, জুয়া এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হলেও মাঠপর্যায়ে কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার যোগসাজশে এই অবৈধ বাণিজ্য আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক ও জুয়ার এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে একদল চিহ্নিত অপরাধী, যাদের দাপটে সাধারণ মানুষের জীবন এখন ওষ্ঠাগত।
বিশেষ অনুসন্ধানে জানা গেছে, দক্ষিণ সায়েদাবাদের ৪৮ নং ওয়ার্ডের ১ নং ইউনিটে মাদক ব্যবসার একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছে রানা ও বাদশা নামের দুই ভাই, যাদের পিতার নাম নুরু মিয়া। প্রতিদিন এই এলাকায় তারা প্রকাশ্যেই লক্ষ লক্ষ টাকার মাদকের কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুধু রানা বা বাদশা নয়, এই চক্রের সাথে জড়িয়ে আছে আরও বেশ কিছু নাম। ৩৯ নং দক্ষিণ সায়েদাবাদ এলাকার লালু মিয়ার ছেলে মামুন এবং হানিফ মিয়া (পিতা নলু মিয়া) সহ একাধিক মাদক ব্যবসায়ী এই সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য। তাদের এই বিশাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রতিদিন হাতবদল হচ্ছে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মাদকদ্রব্য, যার শিকার হচ্ছে এলাকার স্কুল-কলেজ পড়ুয়া তরুণ সমাজ। মাদকের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকা এই যুবসমাজ ধীরে ধীরে জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে।
মাদকের পাশাপাশি দক্ষিণ সায়েদাবাদে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জুয়ার ভয়াবহতা। বিশেষ করে ৪৯/৫ দক্ষিণ সায়েদাবাদ এলাকায় বাচ্চু মিয়ার পাঁচতলা বাড়ির দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় প্রতিদিন বসে জমজমাট জুয়ার আসর। স্থানীয়দের দাবি, এই আসর থেকে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা লেনদেন হয়। জুয়াড়িরা দূর-দূরান্ত থেকে এসে এখানে ভিড় জমায়, যার ফলে এলাকাটি এখন অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। জুয়া আর মাদকের এই নীল দংশন শুধু আর্থিক ক্ষতিই করছে না, বরং এর প্রভাবে এলাকায় চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও ডাকাতের মতো ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের মানুষেরা নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন, অথচ প্রভাবশালী এই চক্রের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পাচ্ছে না কেউ।
সম্প্রতি সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে ঘোষণা করা হয়েছে যে, দেশে কোনোভাবেই মাদক, জুয়া এবং সন্ত্রাস বরদাশত করা হবে না। প্রশাসনের প্রতি কঠোর নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও দক্ষিণ সায়েদাবাদের এই চিত্র ভিন্ন এক বাস্তবতার জানান দিচ্ছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তার মাসোহারা বা অনৈতিক সুবিধার কারণেই এই অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে নয়, বরং অনেকটা প্রকাশ্যেই এই বাণিজ্য চলছে বলে মনে করছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে বিশেষ অভিযান চালিয়ে রানা, বাদশা, মামুন, হানিফ ও বাচ্চু মিয়ার মতো রাঘববোয়ালদের আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায়, দক্ষিণ সায়েদাবাদ এলাকাটি অচিরেই সম্পূর্ণ অপরাধীদের দখলে চলে যাবে এবং এখানকার সামাজিক শৃঙ্খলা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে।