আবু সায়েদ:
জনগণের প্রত্যাশা একটি দেশপ্রেমিক সরকার প্রতিষ্ঠা এবং সেই সরকারের অংশ হিসেবে দায়িত্বশীল বিরোধীদল গড়ে ওঠা—এমন মন্তব্য করেছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। শনিবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর টাউন হল ও পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাবের আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও দেশের প্রয়োজনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। উন্নয়নে পিছিয়ে থাকা লক্ষ্মীপুরকে এগিয়ে নিতে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও ফেনী দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। হিসাব অনুযায়ী যে পরিমাণ উন্নয়ন হওয়ার কথা ছিল, তার তুলনায় অঞ্চলটি অনেক পিছিয়ে রয়েছে। কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যাওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, সবার আগে প্রয়োজন একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ লক্ষ্মীপুর। গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দেশ পরিচালনা করবে এবং নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন—এটাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে যে দলই ক্ষমতায় থাকুক, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাপন নিশ্চিত করতে হবে।
সুধী সমাবেশে “রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নিরাপদ লক্ষ্মীপুর চাই” ঘোষণা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, কোনো রাজনৈতিক বা দলীয় প্রভাবে সাধারণ ব্যবসায়ীরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। প্রভাবমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মানের ভিত্তিতে সমাজ পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সবচেয়ে বেশি নদীভাঙনপ্রবণ এলাকা হিসেবে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সদর ও রায়পুর এলাকাও ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই লক্ষ্মীপুরসহ দেশের স্বার্থে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাব সভাপতি মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম পাবেলের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব শাহাবুদ্দিন সাবু, জেলা জামায়াতের আমির এস ইউ এম রুহুল আমিন ভূঁইয়া, লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি হুসাইন আহম্মেদ হেলাল, সচেতন নাগরিক কমিটির সাবেক সভাপতি জেড এম ফারুকি এবং লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মাইনুদ্দিন পাঠানসহ বিভিন্ন সুধীজন।
নিজের বক্তব্যের এক পর্যায়ে মন্ত্রী বলেন, তার ব্যক্তিগত কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। আপনাদের দোয়ায় এখনো বেঁচে আছি। বহুবার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছি, জেলও খেটেছি, বলেন তিনি। এ সময় এক বক্তা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়লে পরিবেশ কিছুক্ষণ ভারী হয়ে ওঠে, পরে তিনি নিজেকে সামলে বক্তব্য শেষ করেন।