স্টাফ রিপোর্টার:
বরিশালের রাহাত আনোয়ার হাসপাতালে সিজারের পর নাজিয়া রহমান (২৬) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চিকিৎসক ডা. তহুরা আক্তার ও অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক ডা. সোহেল মিয়ার বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন নিহতের বোন আফিয়া রহমান নিয়ন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে নাজিয়া রহমানকে সিজারের জন্য বরিশালের বান্দ রোড এলাকার রাহাত আনোয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি ডা. তহুরা আক্তারের রোগী ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে সিজারের আগে তাকে অ্যানেসথেসিয়ার ইনজেকশন দেওয়া হয়। অভিযোগকারীর দাবি, ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই নাজিয়া অসুস্থ বোধ করার কথা জানান। এরপর সিজারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করানো হলেও অস্ত্রোপচারের পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।
পরিস্থিতি গুরুতর হলে নাজিয়াকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তাকে শেবাচিমে নেওয়া হলে কর্তব্যরতদের বরাত দিয়ে অভিযোগে বলা হয়, হাসপাতালে পৌঁছানোর আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ মিনিট আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর থেকে নাজিয়ার শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন, অস্ত্রোপচারের সময় ও পরবর্তী পর্যবেক্ষণ, জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং শেবাচিমে স্থানান্তরের সময়কাল। এসব তথ্য চিকিৎসা নথি ও সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের রেকর্ড যাচাই ছাড়া নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
ডা. তহুরার বক্তব্য জানতে যোগাযোগ, ফোন ধরেন স্বামী
অভিযোগের বিষয়ে ডা. তহুরা আক্তারের বক্তব্য জানতে তালাশ বিডির বরিশাল অফিস থেকে তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোনটি তাঁর স্বামী রিসিভ করেন। তিনি জানান, ডা. তহুরা তখন বাসার বাইরে ছিলেন এবং পরে তাঁর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ করে দেবেন। ফোনটি তাঁর স্বামী কেন রিসিভ করেছেন—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, বিষয়টি পরে আলোচনা করবেন। এ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত ডা. তহুরা আক্তারের সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
নিহতের বোন আফিয়া রহমান নিয়ন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে লিখিত অভিযোগে উত্থাপিত অভিযোগগুলো এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। নাজিয়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও চিকিৎসা-প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অবহেলা হয়েছিল কি না, তা নির্ধারণে রোগীর ভর্তি নথি, অ্যানেসথেসিয়া রেকর্ড, অপারেশন নোট, অস্ত্রোপচার-পরবর্তী পর্যবেক্ষণ, রেফারাল নথি এবং শেবাচিমের চিকিৎসা রেকর্ড পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। নিরপেক্ষ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতেই ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।